| শিরোনাম |
|
Smart Technologies (BD) Ltd. এর ভ্যাট–শুল্ক ফাঁকি ও অর্থপাচারের অনুসন্ধান এক বছরের বেশি ঝুলে আছে দুদকে- প্রশ্নবিদ্ধ নীরবতা, অদৃশ্য সুরক্ষা আর দুদকের ভূমিকা
গনকন্ঠ ক্রাইম ডেস্ক :
|
দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলেকট্রনিক্স আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান Smart Technologies (BD) Ltd.–এর বিরুদ্ধে ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকি, ভুয়া ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ আমদানি এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের গুরুতর অভিযোগ ওঠার এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। অনুসন্ধান কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে—কেন, কী কারণে, কার নির্দেশে—সে প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই।লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ঢাকার কাফরুলে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নামী ব্র্যান্ড—বিশেষ করে SONYসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নাম ও নকশা ব্যবহার করে এলইডি টিভি, অডিও-ভিডিও পণ্য ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী আমদানি ও বাজারজাত করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আমদানির সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য, উৎস ও ব্র্যান্ড সংক্রান্ত তথ্য গোপন রেখে ভুয়া ঘোষণার মাধ্যমে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও শুল্ক থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে “SMART” ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোর ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তিকর লেবেলিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণার পাশাপাশি বৈধ আমদানিকারক ও দেশীয় শিল্পকে প্রতিযোগিতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ আমলা এবং কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ থাকতে পারে। অভিযোগে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কন্যা নাফিসা কামালসহ একাধিক প্রভাবশালী নাম উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।এই প্রভাবের বলয় ব্যবহার করেই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ এড়িয়ে যাচ্ছে—এমন সন্দেহ জোরালো হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) ও অন্যান্য সরকারি সেক্টরে পণ্য সরবরাহের নামে মানহীন বা প্রশ্নবিদ্ধ পণ্য দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো—এই অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ সিঙ্গাপুর, দুবাই ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ হাজার হাজার কোটি টাকা। তবে এত বড় অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদকের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন— • মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, চেয়ারম্যান • মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক • মোহাম্মদ তানভীর হোসেন, পরিচালক • মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন, AGM (Marketing & Corporate Affairs) বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, দুদকের অভ্যন্তরেই প্রভাবশালী মহলের চাপ ও অনৈতিক সুবিধা প্রদানের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই সত্ত্বেও এখনো কোনো মামলা হয়নি। যদিও এসব তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্তের অগ্রগতি না হওয়াই সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে। জনস্বার্থে প্রশ্ন জেগেছে যে, এত বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত থেমে আছে কেন? দুদক কি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চাপের মুখে নীরব? রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ও জনস্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? দেশের রাজস্ব, ভোক্তার অধিকার ও সুশাসনের স্বার্থে এসব প্রশ্নের জবাব এখন জরুরি। নচেৎ দুর্নীতির অভিযোগ শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর জবাবদিহিতার জায়গা আরও দুর্বল হবে। |