| শিরোনাম |
|
বাজারের গুঁড়া দুধে ভয়াবহ ভেজাল, ঝুঁকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() বাজারের গুঁড়া দুধে ভয়াবহ ভেজাল, ঝুঁকিতে শিশুদের স্বাস্থ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া গুঁড়া দুধের বড় একটি অংশেই ভয়াবহ ভেজাল রয়েছে। যেসব পণ্য বাবা-মায়েরা চোখ বন্ধ করে শিশুদের খাওয়াচ্ছেন, সেগুলোর মধ্যেও ক্ষতিকর উপাদান মিলছে। বিশেষ করে শিশুদের জনপ্রিয় গুঁড়া দুধে দুগ্ধ উপাদানের পরিমাণ খুবই কম, বরং সস্তা ‘হয়ে পাউডার’ মিশিয়ে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। সম্প্রতি ল্যাব পরীক্ষায় ‘গোয়ালিনী ডেইলি ফুলক্রিম মিল্ক পাউডার’-এ মাত্র ১৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ দুগ্ধ উপাদান পাওয়া গেছে। বাকি অংশের বড় অংশই ভেজাল উপাদান। অনুসন্ধানে জানা যায়, চকচকে মোড়ক ও পরিচিত নাম ব্যবহার করে এসব পণ্য বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। আইন থাকলেও বাস্তবে এর কার্যকর প্রয়োগ খুব সীমিত বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। আদালতে ভেজাল প্রমাণিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে সামান্য জরিমানা দিয়েই পার পেয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য বাজারে থেকেই যাচ্ছে। গুঁড়া দুধে ভেজালের ভয়াবহ চিত্র ডিএসসিসির খাদ্য পরিদর্শকরা সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় দেখতে পান, গোয়ালিনী গুঁড়া দুধে দুগ্ধ চর্বি ও প্রোটিন—দুটোরই পরিমাণ নির্ধারিত মানের তুলনায় অনেক কম। যেখানে দুগ্ধ উপাদান থাকার কথা ছিল অন্তত ৭৬ শতাংশ, সেখানে পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ শতাংশের কিছু বেশি। ফলে প্রায় ৬৭ শতাংশের বেশি ভেজাল উপাদান দিয়ে এই পণ্য তৈরি হয়েছে। ল্যাব রিপোর্টে আরও দেখা যায়, প্যাকেটে উল্লেখ করা পুষ্টিগুণের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলের কোনো মিল নেই। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গোয়ালিনী গুঁড়া দুধ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন এবং তিন লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে এসএ গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. সাহাবুদ্দিন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে দোষ স্বীকার করেন এবং ভেজাল পণ্য তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন। মামলার বাদী ও প্রসিকিউটিং অফিসার মোহা. কামরুল হাসান বলেন, ‘দোষ স্বীকার করায় আদালত পণ্য ধ্বংসের আদেশ দেয়।’ শুধু একটি ব্র্যান্ড নয় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শুধু গোয়ালিনী নয়—আসলাম টি কোম্পানি, ডানো, ড্যানিশ, নেসলে ও স্টারশিপসহ একাধিক ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ পরীক্ষায় মানোত্তীর্ণ হয়নি। এসব পণ্যের আমদানিকারকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। বিএসটিআই লোগো নিয়েও প্রশ্ন অনেক ভেজাল পণ্যের প্যাকেটে বিএসটিআই লোগো ও কিউআর কোড থাকায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন ক্রেতারা। বিএসটিআইয়ের সমন্বয় কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘মানহীন অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের নকল লোগো দেওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি মাথায় রেখে লোগোর সঙ্গে এখন কিউআর কোড দেওয়া হয়। গ্রাহকরা কিউআর কোড স্ক্যান করলে ওই পণ্য নিবন্ধিত কি না, নিশ্চিত হতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএসটিআই নিবন্ধিত কোনো পণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ অন্যান্য শিশুখাদ্যেও ভেজাল শুধু গুঁড়া দুধ নয়, আমদানি করা কিটক্যাট চকলেট ও কিছু ওয়েফারজাত শিশুখাদ্যেও ভেজাল ধরা পড়েছে। এসব ঘটনায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে এবং কিছু পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের উপপরিচালক ডা. মো. আকতার ইমাম বলেন, ‘ভেজাল পণ্যে শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রেন ডেভেলপমেন্টে সমস্যা হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য সরকারের আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, ‘শিশু খাদ্য খুবই স্পর্শকাতর। এটার মান নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, বাজার থেকে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। শিশুখাদ্যে ভেজাল ঠেকাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ক্রেতাদের সচেতনতা ও সরকারি তদারকি জোরদার করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র : দেশ রূপান্তর। |