| শিরোনাম |
|
গভীর সংকটে বস্ত্রখাত: অদৃশ্য ইশারায় প্রত্যাহার হচ্ছে না বন্ড সুবিধা
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() গভীর সংকটে বস্ত্রখাত: অদৃশ্য ইশারায় প্রত্যাহার হচ্ছে না বন্ড সুবিধা বন্ড সুবিধায় প্রতিবেশী দেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবাধে সুতা আমদানির ফলে কমে গেছে দেশীয় সুতার চাহিদা। মিলগুলোতে জমে আছে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অবিক্রিত সুতা। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৬০টি স্পিনিং কারখানা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান বলেন, “লোকসানে সুতা বিক্রি করতে করতে গত দুই বছরে আমাদের স্পিনিং মিলগুলো দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারকে বারবার বলেছি যে আপনারা দেখেন, এটা সমাধান করেন। পার্শ্ববর্তী দেশ কিন্তু আমাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাচ্ছে বস্ত্রখাতে। তারা তাদের পণ্যে প্রণোদনা দিয়ে বাংলাদেশে ডাম্পিং করতেছে, যাতে আমাদের এই খাত ধ্বংস হয়ে যায়।” উদ্বেগজনক তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৩০ কাউন্টের এক কেজি সুতা উৎপাদনে ব্যয় হয় ২ দশমিক ৯৩ ডলার, আর দেশে উৎপাদিত একই সুতার দাম ২ দশমিক ৮৫ ডলার। তবুও ভারত সরকার নিজ দেশের উদ্যোক্তাদের নানাবিধ প্রণোদনা দিয়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করছে। ফলে তারা প্রায় ৩৮ শতাংশ কম দামে বাংলাদেশে সুতা রফতানি করতে পারছে। এতে দেশীয় শিল্প মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। আমদানি বাড়ছে, দুর্বল হয়ে পড়ছে স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থা। বিটিএমএ’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজিব হায়দার বলেন, “পার্শ্ববর্তী দেশ রফতানির ৪৮ ভাগ এই দেশে রফতানি করে। তাহলে একটা নির্দিষ্ট পণ্য একটি দেশের ওপর পুরোপুরি আমদানিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। যদি স্থানীয় মিলগুলো সক্ষমতা হারায়, তাহলে ওই দেশ যখন দেখবে যে, এই দেশে তাদের প্রতিযোগী হিসেবে বিকল্প শিল্প নাই, তখন অবস্থাটা কী হবে? এই দামে কি সুতা পাওয়া যাবে?” খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একক দেশনির্ভরতা বজায় রাখতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রায় ৪৫ বছর ধরে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা থাকলেও এই দীর্ঘ সময়ে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও শিল্প সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সালেউদ জামান খান আরও বলেন, “বন্ডকে নিয়ন্ত্রণ করেন, যাতে দেশীয় শিল্প বড় হয়। আর ডিবন্ডিং করার কারণে যারা সত্যিকারের ব্যবসায়ী, যারা সুতা আমদানি করে রফতানি করে তাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু যারা স্থানীয় বাজারে কালোবাজারি করে তাদের হয়তো একটু বেশি সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।” ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার বলেন, “এই বন্ডের সুতা বিক্রি হচ্ছে, আর আমার মিলের সুতা গোড়াউনে পড়ে আছে। বিরাট একটা চক্র আছে, যারা এই বন্ডের সুতার অপব্যবহার করতেছে। ডিবন্ড যখন করবেন, তখন এই কাউন্টের সুতার বন্ড শুল্ক দিয়ে তাকে আমদানি করতে হবে। তাকে রফতানি করতে হবে শুল্ক ফেরত পাওয়ার জন্য। আর যদি রফতানি না করেন তাহলে শুল্ক ফেরত পাবে না। তাহলে যিনি ভিন্ন চিন্তা করে সুতাটা আনতো, তারটা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবে অটোমেটিক।” স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় সুতায় বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এনবিআরকে চিঠি দিলেও, অদৃশ্য হস্তক্ষেপে এখনো কার্যকর হয়নি সিদ্ধান্ত। |