শনিবার ৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৩:৫৬ পিএম
শিরোনাম সিংড়ায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড       পাবনার হান্ডিয়াল থেকে প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার       পাবনার ৩টি আসনে বিএনপির হারে হাবিবকে দায়ী করে জেলা বিএনপি কমিটি বিলুপ্তির দাবি        ঘোড়াঘাটে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান গ্রেপ্তার ৭       আনোয়ারা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এতিমদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিল        আনোয়ারা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে এতিমদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিল        রাজাপুরে কাঁচামাল ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ      
নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলুন
গনকণ্ঠ ডেস্ক :
Published : Saturday, 31 January, 2026
নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলুন

নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলুন

নিপাহ ভাইরাস একটি প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ানো সংক্রামক রোগ, যা মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ার “সুঙ্গাই নিপাহ” গ্রামে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং ওই গ্রামের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয় নিপাহ ভাইরাস। গবেষণায় দেখা গেছে, বাদুড় ও শূকর এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তাদের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটে।

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের পরিস্থিতি
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০০১ সালে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই শীত মৌসুমে এই রোগের সংক্রমণ লক্ষ্য করা যায়। এখন পর্যন্ত দেশে প্রায় ৩৪৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে ৫ জন এবং ২০২৫ সালে ৪ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম, তবুও বাংলাদেশকে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কীভাবে ছড়ায় নিপাহ ভাইরাস
বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাদুড়ের লালা ও মলমূত্রের মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দূষিত খাবার, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা আক্রান্ত মায়ের দুধ পান করলেও সংক্রমণ ঘটতে পারে।
বিশেষ করে শীতকালে খেজুরের কাঁচা রস পান করার মাধ্যমে বাংলাদেশে এই রোগ বেশি ছড়ায়। রস সংগ্রহের সময় বাদুড় হাঁড়িতে মুখ দিলে বা সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করলে সেই রস দূষিত হয়ে পড়ে। এমন দূষিত রস পান করলেই মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

রোগের লক্ষণ
ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

উচ্চমাত্রার জ্বর

মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা

খিঁচুনি

শ্বাসকষ্ট

বমি ও দুর্বলতা

গুরুতর অবস্থায় রোগীর মস্তিষ্কে এনসেফালাইটিসের মতো জটিলতা দেখা দেয়। এতে রোগী অচেতন হয়ে যেতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। যারা বেঁচে যান, তাদের অনেকের স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া বা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকি থাকে।

নিপাহ ভাইরাস শনাক্তকরণ
এলাইজা টেস্ট, পিসিআর এবং সেল কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব।

চিকিৎসা ব্যবস্থা
এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। তাই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজন হলে রোগীকে আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে হয়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সতর্কতা
আক্রান্ত রোগীর পরিচর্যার সময় চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। মাস্ক, গ্লাভস এবং পিপিই ব্যবহার করা জরুরি। রোগীর সংস্পর্শে আসার পর ভালোভাবে হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করা অত্যাবশ্যক।

প্রতিরোধে করণীয়
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা নিচের বিষয়গুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন—

খেজুরের কাঁচা রস কোনোভাবেই পান করা উচিত নয়।

রস পান করতে চাইলে অবশ্যই ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে।

খেজুরের রস দিয়ে তৈরি গুড়, পায়েস বা পিঠা খাওয়া নিরাপদ।

রস সংগ্রহের হাঁড়ি নেট বা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে বাদুড় স্পর্শ করতে না পারে।

ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে এবং বাদুড়ে খাওয়া আংশিক ফল এড়িয়ে চলতে হবে।

আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আক্রান্ত মা যেন শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ান।

বাড়তি সতর্কতা
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত এলাকার মানুষদের অন্তত ২১ দিন পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। খেজুরের রস পান করার পর কারও জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অচেতনভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেহেতু এই রোগের কোনো টিকা নেই, তাই জনসচেতনতা ও সতর্কতাই নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com