| শিরোনাম |
|
যাত্রাবাড়ী–গুলিস্তান ফ্লাইওভার বকেয়া পরিশোধ না করেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ওরিয়নের।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() যাত্রাবাড়ী–গুলিস্তান ফ্লাইওভার বকেয়া পরিশোধ না করেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ওরিয়নের। বকেয়া পরিশোধ না করেই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ওরিয়নের। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী–গুলিস্তান (মেয়র হানিফ) ফ্লাইওভার থেকে আদায় হওয়া টোলের একটি বড় অংশ বছরের পর বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কোষাগারে জমা পড়েনি। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন টোল দিচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থের প্রাপ্য অংশ না পাওয়ায় বঞ্চিত হচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ—এমন তথ্য উঠে এসেছে একাধিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান, সিটি করপোরেশনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, 🔹 ফ্লাইওভার চালুর পর ৪,১৫৭ দিনের মধ্যে ২,৩৯২ দিন কোনো ইক্যুইটি শেয়ার দেয়নি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড 🔹 সর্বশেষ প্রায় ৯ মাস ধরে টোলের ভাগ সম্পূর্ণ বন্ধ 🔹 ১১ বছরে করপোরেশন পেয়েছে মাত্র ৪০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা অথচ সম্ভাব্য আয় কয়েকগুণ বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন। টোল দিচ্ছে মানুষ, কিন্তু উন্নয়নে ফিরছে না অর্থ প্রতিদিন এই ফ্লাইওভার ব্যবহার করেন কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, রোগীবাহী গাড়ি—সবাই। টোল না দিলে গেট খোলে না। অর্থাৎ আদায় নিশ্চিত। কিন্তু সেই অর্থ যদি নগর উন্নয়ন, রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ বা নাগরিক সেবায় ব্যবহার না হয়—তাহলে ক্ষতিটা শেষ পর্যন্ত নগরবাসীরই। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই রাজস্ব সঠিকভাবে আদায় হলে সিটি করপোরেশনের বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হতো। আয়-হিসাবে বড় অমিল সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী— প্রতিদিন প্রায় ১.৫ থেকে ১.৬ লাখ যানবাহন ফ্লাইওভার ব্যবহার করে। সে হিসেবে বছরে সম্ভাব্য টোল আয় প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে বার্ষিক আয় দেখানো হচ্ছে মাত্র ১৪০ থেকে ১৭৮ কোটি টাকা। এই বিশাল ব্যবধান নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন— আসল হিসাব কোনটি? বকেয়া রেখে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন অভিযোগ রয়েছে, পাওনা অর্থ পরিশোধ না করেই ওরিয়ন আরও ২,০৩৪ দিনের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, বকেয়া পরিশোধের আগেই মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন “অযৌক্তিক” এবং “জনস্বার্থের পরিপন্থী”। তদন্তে মিলেছে অনিয়মের ইঙ্গিত সিটি করপোরেশনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে— ▪ টোল স্লিপে পর্যাপ্ত তথ্য নেই ▪ ডিজিটাল পেমেন্টের হিসাব অস্বচ্ছ ▪ লাইভ ডাটা করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নয় ▪ বকেয়া অর্থের ওপর সুদ পরিশোধ হয়নি ▪ টোল হার ও যানবাহন শ্রেণি পরিবর্তনে অসঙ্গতি কমিটি নিরপেক্ষ অডিট, ডিজিটাল মনিটরিং এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে। বক্তব্যে অসামঞ্জস্য, নীরবতা ওরিয়নের প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হটলাইনেও সাড়া মেলেনি। শেষ কথা এই ফ্লাইওভার জনগণের টাকায় নির্মিত। টোলও দিচ্ছে জনগণ। তাই প্রশ্নটা সরল— এই অর্থের হিসাব কোথায়? স্বচ্ছ অডিট ও জবাবদিহি ছাড়া এই বিতর্কের অবসান হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। |