| শিরোনাম |
|
সফল নির্বাচন স্বস্তিতে জনগন
মাহমুদুল হক আনসারী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() সফল নির্বাচন স্বস্তিতে জনগন লেখক ও পর্যবেক্ষক হিসেবে আমি এই নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সরকার এবং সিইসির সব ধরণের কর্মকর্তাদের প্রতি গভীর ভাবে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশের গণতন্ত্রগামি জনগন সুষ্ঠ নির্বাচন, ভোটাধিকার প্রয়োগ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনকে নাগরিক অধিকার হিসেবে পেতে চায়। একজন নাগরিক তিনি ভোট দিতে চান। তিনি ইচ্ছেমতো তার পছন্দসই প্রার্থিকে ভোটের মাধ্যমে রায় প্রকাশ করে নির্বাচত করতে চায়। তাই ভোট প্রদান কেন্দ্রের নিরাপত্তা, যাতায়াত ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবকিছু বিবেচনায় রেখে ভোটাররা তাদের মতামত প্রদান করতে চায়। ইচ্ছেমতো প্রার্থি নির্বাচন ভালোবাসার প্রতিক ও প্রার্থিকে জয়ী করতে যা যা দরকার সবকিছু ত্যাগ করতে রাজি একজন ভোটার। এই আনন্দ এই উৎসব ১২ ফেব্রুায়ারী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত লক্ষ করা গেছে। ১১৫ বছরের বৃদ্ধ ভোটার থেকে ১৮ বছরের নবীন প্রবীন সব বয়সের নারী পুরুষ একাকার হয়ে তাদের নাগরিক অধিকার ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের নজিরবিহীন এত সুন্দর সুষ্ঠ অবাদ নির্বাচন আমার এই বয়সে আর চোখ পড়েনি। শহর থেকে গাঁ গ্রাম পর্যন্ত সবগুলো ভোটকেন্দ্র ছিল চোখে পড়ার মতো ভোটারের উপস্থিতি। সমস্ত কেন্দ্রগুলোতেই সকাল থেকে শত শত মানুষের লাইন ধরে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। বাংলাদেশের ভোটের ইতিহাসে জাতীয় নির্বাচনে এভাবে আনন্দপূর্ণ নিরাপদে ভোট প্রদান অনুষ্ঠান উপভোগ করতে সকলের নিকট ভালো লেগেছে। ছোট বড় প্রায় ৫১টি রাজনৈতিক দলজোট এই নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছে। তারা ভোট প্ওায়ার জন্য জনগনের নিকট তাদের বক্তব্য প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে। জনগন বড় বড় দলজোটের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে মতামত ব্যক্ত করেছে, ভোট প্রদান করেছে। নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ ছিল খুবই শান্ত। কোনো প্রকার বড় ধরণের সংগাত ছাড়া এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। জনগন নির্বাচনের ফলাফলে আজ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে জয় পরাজয় এটি নির্বাচনের উদ্দেশ্য। ফলে যারাই জয়ী হয়েছে তাদের জন্য ফুলেল শুভেচ্ছ। আর যারা বিজয়ী হতে পারেনি তাদের জন্য মন খারপ করার মতো চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ জয় পরাজয় নিয়েই এই নির্বাচন। পরাজয় মেনে নেওয়া রাজনীতির চরিত্র গণতন্ত্রের প্রতিশ্রুতি। দেশ ও জাতি গঠনে বিজয়ী ও পরাজিত সকল নেতাকে কাজ করতে হবে। তবেই আগামি দিনে পরাজিতদের জয়ী হওয়ার রাস্তা প্রসস্ত হয়। মনে রাখতে হবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। কখন কার জন্য জয়ের মালা আবার কোন নেতার জন্য জেল জুলুমের নিপীড়ন অপেক্ষা করছে এই কথা আগেবাগে কেউই বলতে পারবে না। সম্মান ও ইজ্জত ক্ষমতা সব কিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়ে আসে। ইজ্জত, বেইজ্জত সব কিছু মাত পেতে গ্রহন করার নাম রাজনীতি। তাই রাজনীতিতে জনগনের অধিকার মানবতা মানবিকতা নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারকে সর্বগ্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মৌলিক অধিকার ধর্মীয় স্বাধিনতা অন্ন বস্ত্র চিকিৎসা শিক্ষা বাসস্থােেনর নাগরিক অধিকারকে রাজনীতিতে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের অবশ্যই দেশের স্বাধিনতা সার্বভৌমত্ব নিরাপদ রাখতে সাংবিধানিক শপথ রক্ষা করে চলতে হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধি কোনো ধরণের ষড়যন্ত্রে পা রাখা যাবে না। বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিকে বহিঃবিশ্বের আগ্রাসি শক্তি থেকে রক্ষা করতে হবে। স্বাধিনতা সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো শক্তির সাথে আপোস করা যাবে না। এই সব সাংবিধানিক ওয়াদা জাতীয় সংসদের সকল সদস্য মন্ত্রি পরিষদ সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনে রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে বাংলাদেশের জনগন ও মাতৃভূমি সবধরনের দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করতে হবে। এই উদ্দেশ্যেই রাজনীতি গনতন্ত্র ও নির্বাচন। তাই সকল রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এই সব সাংবিধানিক ওয়াদা রক্ষা করে চলতে হবে। জনগনের সাথে দেয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিক ভাবে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই নির্বাচন শেষ নির্বাচন নয়। আবার আসবে নির্বাচন। জনগন আবার ভোট দেবে। আবার আপনাকে জনতার কাটগড়ায় দাড়াতে হবে। সেইদিন আপনার আজকের দিনের কর্ম ও পরিকল্পনার হিসেব দিতে হবে। সেই দিনের কথা মনে রেখে আজকের দিনকে আপনার দেয়া জনগনের উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন করার পথে আপনার কর্মদিবস শুরু হোক। নির্বাচিত সকল জাতীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি গভীরভাবে ভালোবাসা থাকল। আপনাদের আগমি দিনের পথচলা সুন্দর ও স¦ার্থক হোক। সফল ও গ্রহনযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন দেশ জনগনকে উপহার দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তি সরকার, সিইসি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনিকে জনগনের পক্ষ থেকে অসংখ্য মোবারকবাদ। জনগনের প্রত্যাশা পূরণে আপনাদের পথচলা এগিয়ে চলুক। লেখক:মাহমুুদুল হক আনসারী সংগঠক,গবেষক,কলামিষ্ট |