রোববার ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২০:০৪:০৬ পিএম
শিরোনাম কুষ্টিয়ায় ১১ দলের বিক্ষোভে সংবিধান সংস্কার ও জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবি       ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক কাউন্সিলর নিহত        বান্দরবানে বিদেশি পিস্তলসহ ২ যুবক আটক        বগুড়ায় কৃষক কার্ড বাস্তবায়নে আরডিএ ও রাকাব এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা       জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : তথ্যমন্ত্রী       পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের সাথে সংঘর্ষে স্কুল ছাত্র নিহত       বান্দরবানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু       
কুড়িগ্রামের উত্তাল খরস্রোতা নদ-নদী প্রাণহীন বিপন্ন জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য
খাজা ময়েনউদ্দিন চিশতি কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
Published : Saturday, 7 March, 2026
কুড়িগ্রামের উত্তাল খরস্রোতা নদ-নদী প্রাণহীন  বিপন্ন জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য

কুড়িগ্রামের উত্তাল খরস্রোতা নদ-নদী প্রাণহীন বিপন্ন জনজীবন ও জীববৈচিত্র্য

নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় পানি শুন্য হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার  ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদী। এক সময় এসব নদী ছিল এই জনপদের প্রাণ, আজ সেগুলো যেন কেবল বালু 
আর ফাটল ধরা স্মৃতির সাক্ষী। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে নদীনির্ভর মানুষের জীবিকা, হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জীববৈচিত্র্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ধরলা নদীর বুক এখন আর নদীর মতো নেই, শুকিয়ে গিয়ে তা পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ মাঠে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করছেন কৃষকরাও। কোথাও কোথাও সবজি ক্ষেত, কোথাও ধান বা ভুট্টার চাষ। কিন্তু এই চাষাবাদে নেই কোনো স্বস্তি, বরং লুকিয়ে আছে গভীর অনিশ্চয়তা। এমনি চিত্র অন্যন্য নদ নদীরও। কারণ, নদী যে কোনো সময় আবার জেগে উঠতে পারে, ভাসিয়ে দিতে পারে সবকিছু। 
পানি না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌযান চলাচল। যে নদীপথ একসময় ছিল যোগাযোগের সহজ মাধ্যম, আজ সেখানে নৌকা ভাসানোর মতো পানিও নেই। মাঝি, জেলে, নৌকার মালিকসহ নদীঘেঁষা অসংখ্য মানুষ পড়েছেন চরম বেকায়দায়। জীবিকার পথ হারিয়ে অনেকেই অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে মানবেতর দিন পার করছেন।

শুধু মানুষ নয়, নদী শুকিয়ে যাওয়ায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও পাখিসহ নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্য। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত নদীগুলোর খনন কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। নিয়মিত খননের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনলে যেমন নদীর প্রাণ ফিরে আসবে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবও অনেকটা কমানো সম্ভব হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট সরদার তাজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব নদ নদী খনন না করার ফলে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানির চাপ নিতে পারে না নদীগুলো। সবমিলিয়ে এখানকার নদ নদীর যে সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। আবার অনেক নদী মৃত প্রায়। এসব নদী বাঁচাতে হলে পরিকল্পনা নিয়ে খননের মাধ্যমে বাঁচানো সম্ভব। 
ধরলা নদী পাড়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, আমাদের দেখা একসময় এই ধরলা নদী পানিতে টইটম্বুর থাকতো। সেই ধরলা এখন মরা গাঙে পরিনত হয়েছে। সেই সাথে নদীর যে সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। নদীনির্ভর মানুষগুলো পেশা বদল করে বিভিন্ন কর্মে লিপ্ত হয়েছে। তাই আমি বলবো নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে যা প্রয়োজন তা যেন সরকার করেন। 

ধরলা নদী পাড়ের নৌকার মাঝি ভানু চন্দ্র বলেন, নদীতে একেবারে পানি নাই। পানি না থাকার কারনে নৌকা ঠিকমতো চলে না। নদীতে নৌকা না চলার কারনে আয় রোজকার অনেক কমে গেছে। অন্য কাজ করতে না পারায়, খুব সমস্যায় আছি। সংসার চালানো মুসকিল হয়ে গেছে। 
কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দীন বলেন, নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে বায়ুতে ধুলিকনা উড়িয়ে বায়ু দুষন হচ্ছে। অন্যদিকে নাব্যতা সংকটসহ পানি না থাকায় জলজ ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে।  




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com