| শিরোনাম |
|
মাওনা চৌরাস্তায় লক্ষ টাকার সিসিটিভি ও লাইট ব্যানারের আড়ালে নেই সিসিটিভি মনিটরিং
শ্রীপুর গাজীপুর প্রতিনিধি
|
চুরি, ছিনতাই ও মাদক সেবনকারীদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও এখনো কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারের কারণে এলইডি প্রোজেক্টর লাইটের পর্যাপ্ত আলোও চারদিকে পৌঁছাতে পারছে না।গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থান মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় চুরি, ছিনতাই, খুন ও মাদক ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এসব অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা ও মনিটর স্থাপন করা হলেও এখনো কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু হয়নি। ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ ও গাজীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। তবে অপরাধীদের শনাক্তে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর নিয়মিত মনিটরিং ও দেখভালের অভাবে চুরি-ছিনতাই কমছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকা আলোকিত করতে স্থাপন করা এলইডি প্রোজেক্টর লাইটের অনেকগুলোই নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও ব্যানারের কারণে পর্যাপ্ত আলোও পাওয়া যাচ্ছে না। গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) সচেতন নাগরিক সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীপুর পৌরসভার উদ্যোগে মাওনা চৌরাস্তা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব সিসিটিভি ক্যামেরা ও এলইডি প্রোজেক্টর লাইট স্থাপন করা হয়। শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিসিটিভি মনিটরিংয়ের জন্য নির্ধারিত কক্ষটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঈদের নতুন পোশাক কিনতে আসা ফাহিম বলেন, এলইডি প্রোজেক্টর লাইট ব্যবহারের কারণে মাওনা চৌরাস্তা কিছুটা আলোকিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও ব্যানারের কারণে পুরো এলাকায় আলো পৌঁছাচ্ছে না। ঈদের সময় মানুষের সমাগম বেশি থাকায় ছিনতাইকারীরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে। সিসিটিভি ক্যামেরার সঠিক মনিটরিং হলে এসব অপরাধ অনেকটাই কমে যাবে। মাওনা চৌরাস্তা এলাকার সচেতন নাগরিক ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন শাজাহান বাদশাহ বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় ২৩টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্যামেরা এখন কাজ করছে না, অনেক স্থানে তার কেটে ফেলা হয়েছে এবং কিছু লাইটও জ্বলছে না। প্রশাসন যেন দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে ক্যামেরাগুলো সচল করে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করে, সে দাবি জানান তিনি। স্থানীয় নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু যদি এর যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হলে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর না থাকলে অপরাধীরা কোনো ভয় পাবে না। দ্রুত একটি নিয়ন্ত্রিত মনিটরিং সেল চালু করে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। |