| শিরোনাম |
|
পীরের আদেশে ১০ বছর ধরে শরীরে ৪০ কেজি শিকল ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন রাশেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() পীরের আদেশে ১০ বছর ধরে শরীরে ৪০ কেজি শিকল ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেন রাশেদ নিজস্ব প্রতিবেদক, ভৈরব পীরের আদেশে গত ১০ বছর ধরে নিজের শরীরে জড়িয়ে রেখেছিলেন ৪০ কেজি ওজনের লোহার শিকল। ১০টি তালা দিয়ে সেই শিকল ছিল স্থায়ীভাবে আবদ্ধ। ঘরবাড়ি ছেড়ে যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়াতেন স্টেশনে স্টেশনে। অবশেষে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাঈদের মানবিক হস্তক্ষেপে সেই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেলেন চাঁদপুরের রাশেদ বেপারী। গত কয়েকদিন ধরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শিকল জড়ানো অবস্থায় এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা। সন্দেহবশত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ বক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দীর্ঘ আলাপের পর জানা যায় তার পরিচয়। তিনি চাঁদপুর জেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুরুজ বেপারীর ছেলে রাশেদ বেপারী। জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদ জানান, এক পীরের আদেশে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি এই ৪০ কেজি ওজনের লোহার শিকল শরীরে বহন করছেন। দীর্ঘ এক দশক ধরে এই শিকলের ভার ও ১০টি তালার ওজন নিয়েই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবঘুরে জীবন পার করছিলেন। ওসি মোহাম্মদ আবু সাঈদ রাশেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। জানা যায়, রাশেদের একটি ছেলে রয়েছে যে বর্তমানে মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে (দুই পারা হাফেজ)। দীর্ঘকাল ধরে রাশেদ পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাইরে বাইরে থাকছেন। ওসি আবু সাঈদ যখন রাশেদকে শিকলমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রস্তাব দেন, রাশেদ তাতে সম্মতি জানান। এরপর তার শরীর থেকে সেই ভারী শিকল ও তালাগুলো কেটে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘদিনের উস্কোখুস্কো চুল-দাড়ি কেটে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। ওসি তাকে নতুন পাঞ্জাবি, পাজামা ও টুপি উপহার দেন। আয়নায় নিজের নতুন রূপ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাশেদ এবং ওসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাশেদ বেপারীকে তার পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন মানবিক ও সংবেদনশীল উদ্যোগ ভৈরব এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, "মানুষটি শিকলের ভারে কুঁজো হয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি এখন তিনি তার পরিবারের সাথে সুস্থ ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করবেন। |