| শিরোনাম |
|
নাসিরনগরে শতাব্দী প্রাচীন শুটকি মেলায় জমজমাট বেচাকেনা, কোটি টাকার প্রত্যাশা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() নাসিরনগরে শতাব্দী প্রাচীন শুটকি মেলায় জমজমাট বেচাকেনা, কোটি টাকার প্রত্যাশা স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় দুইশত বছর ধরে কুলিকুন্ডা গ্রামে এই শুটকি মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। গ্রামবাসীর উদ্যোগে পরিচালিত এই মেলায় একসময় পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে শুটকি কেনাবেচা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুটকির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই প্রথা প্রায় বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে বর্তমানে মেলার শুরুতে স্বল্প পরিসরে প্রতীকীভাবে পণ্য বিনিময়ের এই প্রথা পালন করা হয়। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত। তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করেও সকাল থেকেই মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে পুরো মেলা প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু শুটকি নয়, মেলায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন লোকজ পণ্যও। শিশুদের জন্য রয়েছে মাটির তৈরি খেলনা, পাশাপাশি নানা স্বাদের খাবারের স্টল ও নাগরদোলাও আকর্ষণ বাড়িয়েছে দর্শনার্থীদের কাছে। সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল মাঠজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসেছে শুটকির দোকান। মাঠের বাইরের অংশে রয়েছে লোকজ পণ্যের পসরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা শুটকি নিয়ে এসেছেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের শুটকির পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছের শুটকিও বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি শুটকির দাম ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে শোল শুটকি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ থেকে ১৭০০ টাকা, বাইন ১৮০০ টাকা, আইড় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা, টুনা ১৫০০ টাকা এবং ইলিশ শুটকি প্রায় ১২০০ টাকা কেজি দরে। মেলায় আসা বাহার মিয়া জানান, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে প্রথম এই মেলায় এসেছিলেন তিনি। সেই থেকে প্রতিবছরই এখানে আসেন শুটকি কিনতে। তিনি বলেন, “দাম একটু বেশি হলেও এখানে বিভিন্ন জাতের শুটকি পাওয়া যায়, আর মেলার পরিবেশটাই আলাদা।” অন্য এক ক্রেতা রমজান মিয়া বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলার খবর জেনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে এসেছেন। তিনি বাইন ও শোল মাছের শুটকি কিনেছেন এবং মেলার অন্যান্য পণ্যও ঘুরে দেখেছেন। মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য হোসাইন আহমেদ জানান, “শুটকি মেলা শুধু কুলিকুন্ডা গ্রামের নয়, এটি পুরো জেলার ঐতিহ্য। মেলায় যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সেজন্য স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। এখানে কোনো চাঁদাবাজি নেই। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।” ঐতিহ্য, বাণিজ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে কুলিকুন্ডার এই শুটকি মেলা আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে। |