| শিরোনাম |
|
ডেমরায় রাজউক– নীরবতা, ইমারত পরিদর্শক মোঃ অমিত হাসান এর বিরুদ্ধে ঘুষ ও অসহযোগিতার অভিযোগ
ট্রান্সফরমারের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ
স্টাফ রিপোর্টার
|
রাজধানীর ডেমরা থানাধীন মুসলিম নগর মাতুয়াইলে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হোল্ডিং নং-১৩৫/৩২, রোড নং-২, ওয়ার্ড নং-৬৫, মুসলিম নগর মাতুয়াইল এলাকার বিপরীতে নির্মিত ছয়তলা একটি নতুন ভবনের গা ঘেঁষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির সাথে ট্রান্সফরমারের দূরত্ব মাত্র এক থেকে দেড় ফুট, যা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হলে শুধু ভবনটির বাসিন্দারাই নয়, আশপাশের শত শত মানুষ প্রাণহানির শিকার হতে পারেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ বৃহৎ এলাকায় জনদুর্ভোগ তৈরি হতে পারে এবং লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা বিধি ও নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করা হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট সংস্থা ডিপিডিসি ও রাজউক (জোন-৬/২)। স্থানীয়দের ভাষ্য, অসৎ উদ্দেশ্য ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক (জোন-৬/২) এর পরিচালক ও অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল মাওয়ার কাছে অভিযোগ জানালে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে “মোবাইল কোর্ট” পরিচালনার অজুহাতে ঈদের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে ভবনটিতে বসবাস শুরু হলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এদিকে ভবনটির দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজউকের ইমারত পরিদর্শক অমিত হাসানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এই প্রকল্প থেকে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দৈনিক গণকণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম জানায়, প্রথম দফায় যোগাযোগ করা হলে ইমারত পরিদর্শক অমিত হাসান রাজউক কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই অফিসে আসবেন বলে জানান। কিন্তু গণকণ্ঠ টিম প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও তিনি উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে ফোন দিলে কল রিসিভ না করে ভয়েস মুডে রেখে দেন বলে অভিযোগ করা হয়। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখে পুনরায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে অমিত হাসান দাবি করেন, তিনি মাত্র ১১ মাস আগে এই জোনে যোগদান করেছেন, তাই পূর্বের ঘটনার দায় তার নয়। তবে তার পূর্ববর্তী ইমারত পরিদর্শকের নাম জানতে চাইলে তিনি “জানেন না” বলে দাবি করেন। সাংবাদিকরা বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বারবার প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল মাওয়ার কক্ষে যান এবং ফিরে এসেও একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন। পরে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত আচরণ করেন এবং দৈনিক গণকণ্ঠের চিফ ক্রাইম রিপোর্টারের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, এটি স্বাধীন গণমাধ্যম চর্চায় বাধা সৃষ্টি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে হস্তক্ষেপের শামিল। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্রান্সফরমারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিপিডিসি, রাজউক জোন-৬ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। |