English    ফটো গ্যালারি    ভিডিও গ্যালারি
বাংলাদেশের এই হারকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছি না
Published : Thursday, 18 May, 2017 at 5:12 PM, Count : 454
বাংলাদেশের এই হারকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছি নাক্রীড়া প্রতিবেদক : গত কিছু দিনে দেশে ও দেশের বাইরে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স ও নিউজিল্যান্ড দলের সেরা একাদশের ৬-৭ জন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির সরল সমীকরণের হিসাবে গতকালের (বুধবার) ম্যাচটিতে আমরাই ফেভারিট ছিলাম। যদিও দিন শেষে ফলাফল হলো বিপরীত। ম্যাচের বিশ্লেষণে এগিয়ে থাকবে মাঠ, কন্ডিশন এবং সব মিলিয়ে পিচের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে আমাদের সেরাটা না দিতে পারাটা।

টস হেরে ব্যাট করাটা আমাদের ব্যাটসম্যানদের চাপটা একটু বাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রথম সেশনে উইকেট তুলনামূলকভাবে একটু বেশি স্লো ছিল। দিনের শুরুতে পিচ ও সকালের কন্ডিশনটা নিউজিল্যান্ডের বোলাররা ভালো ব্যবহার করেছে। তবে এই অবস্থায়ও আমাদের শুরুটা চমৎকার হয়েছে। বোলারদের এই দলের বিপে ২৫৭ রান এই ধরনের পিচে মোকাবিলা করার সামর্থ্যের শক্তি কতটুকু, তার একটা পরীা হয়েছে। বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে আমাদের বোলাররা বল করতে পারলে এই ম্যাচে নিজেদের পারফরম্যান্স বৃদ্ধির জায়গাগুলোর দিকে হয়তো বাড়তি নজর দিতে পারতো।

আয়ারল্যান্ডে যে ধরনের স্লো উইকেটে খেলা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমাদের দেশের ফাট ব্যাটিং উইকেটের চরিত্রের মোটেও মিল নেই। তাই গতকাল বেশি বল খেলার সুযোগ পাওয়া সৌম্য বা মুশফিকের মাঝ থেকে একজন যদি তাদের ইনিংসটা নাইল ও’ব্রাইনের মতো বড় করতে পারতেন, তাহলে আমাদের রান ২৮৫-এর আশেপাশে থাকতো। আমাদের বোলারদের ব্যাটিং শক্তির সামর্থ্য এতই সীমিত হয়ে পড়েছে যে, ভালো পেস বোলিংয়ের বিপরীতে উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের কেউ শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে না পারলে এই সফরে বড় রান দাঁড় করানো বা ম্যাচে রান তাড়া করে জেতাটা কঠিন হয়ে পড়বে।

এই ম্যাচে হেরে যাওয়াটাকে আমি বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছি না। এই ধরনের উইকেটে তামিমের জন্য তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করাটা হয়তো এই ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা মিস করব, কিন্তু তার এই ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কাজে দেবে। তবে এই সিরিজে হঠাৎ করেই শ্রীলঙ্কার সেই সাকিবকে খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি ফিরে গেছেন তার আগেই ব্যাটিং ধাঁচে। তার কাছ থেকে দল শুধু কম খরুচে বোলিং চায় না, চায় প্রয়োজনীয় ব্রেক থ্রুও। সেই কাজটি তার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে দল না পেলে একা মুস্তাফিজ বা রুবেলের পে ম্যাচ জেতানো কঠিন। মেহেদী হাসান মিরাজকে কিছুটা সময় দিতে হবে ধাতস্থ হতে। তবে মাশরাফিকে নতুন বলে দ্রুত নিজের সেরাটা বের করে নিয়ে আসতে হবে। পরের ম্যাচে মাশরাফি ও সাব্বিরকে তাদের হারানো আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে হবে, নইলে প্রথম একাদশ তৈরি করা নিয়ে দল একটা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়ে যাবে।

আম্পায়ারিং মোটামুটি ভালো হলেও জেমি নিশামের এলবিডাব্লিউটা আম্পায়ার কীভাবে মিস করলেন, তা বুঝতে পারলাম না। এখানেই একমাত্র সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল এই ম্যাচে বাংলাদেশের ফিরে আসার।

আমাদের বিপে নিউজিল্যান্ড খেলেছে দুই স্পিনার নিয়ে। আমার মতে, ডাবলিনের ম্যাচে কিউইদের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় এটিই।

সকালে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং দেখেই মনে হচ্ছিল আউটফিল্ড ভালো না। একটু ভালো করে তাকাতেই নজরে এলো বিভিন্ন জায়গায় অসমান এই মাঠ। বেশ কিছু জায়গায় ঢালু আছে। সুন্দরভাবে ঘাস কাটা হলেও অপ্রত্যাশিত বাউন্স ফিল্ডারদের যথেষ্ট ভুগিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের বিপে পরের ম্যাচটাও এই মাঠে। আউট ফিল্ডের যা অবস্থা, তাতে খেলোয়াড়দের আঘাত পাওয়ার কারণ আছে যথেষ্ট। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে ওয়ানডের জন্য এই মাঠটি ২০১৭ সালে এসে মোটেও উপযোগী নয়।






Join With Us
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত