| শিরোনাম |
|
মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল।
নোয়াখালী হাতিয়ায় বিএনপির দু্গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত -৩৫।
স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী :
|
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন লআহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের হাতিয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ওছখালী জিরো পয়েন্টে বিএনপি মনোনীত প্রাথী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম এবং হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য আজিম গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজিম অনুসারী হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইফতেখার হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় ওছখালী বাজারে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রাথী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমের প্রার্থীতা পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল কর্মসূচি দেয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল আজিমের অনুসারীরা। সন্ধ্যার দিকে উপজেলার তমরদ্দি থেকে মশাল মিছিলে যোগ দিতে আজিম অনুসারী বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মিরা তারা ওছখালীতে এমপির বাড়ির উদ্দেশ্যে আসতে থাকে। ওই সময় শামীম অনুসারীরা তাদেরকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে প্রকৌশলী আজিম অনুসারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মি আহত হয়। পরে আজিম অনুসরাী নেতাকর্মিরা একত্রিত হয়ে শামীম অনুসারীদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একপর্যায়ে শামীম অনুসারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। বর্তমানে আমাদের প্রায় ৮-১০জন নেতাকির্ম উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শামীম অনুসারী হাতিয়া পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব কাউছার মোস্তফা বলেন, ওছখালী বাজারের রেডট্রি হোটেলের সামনে থেকে ধানের শীষ মার্কার সমর্থনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিরা একটি মিছিল বের করে। ওই সময় উপজেলার তমরদ্দি থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আজিম অনুসারী নেতাকর্মিরা একটি মিছিল নিয়ে ওছখালি বাজারে আসে। একপর্যায়ে ওছখালি বাজার মোড়ে দুটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে যায়। এ সময় আজিম অনুসারী নেতাকর্মিরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ১০-১২জন নেতাকর্মি আহত হয়। পরবর্তীতে তারা শামীম অনুসারী হাতিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোকারম বিল্লাহ শাহদাতের বাসায় হামলা চালায়। ওই সময় সড়কে শামীম অনুসারীদের কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। বর্তমানে ওছখালী বাজার আমাদের দখলে রয়েছে। এদিকে প্রকৌশলী আজিম অনুসারী উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট নূর হোসেন সুমন অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় বিএনপি প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীমকে পরিবর্তন করে সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিমকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিল শুরু হয়। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর ও বহিরাগতরা আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে হাতিয়া পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি কাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, বিএনপি নেতা ইকবাল উদ্দিন রাশেদ, এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন সহ আমাদের দলের ২০/২৫জন নেতাকর্মী সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীরা পালিয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ওছখালীসহ হাতিয়া আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় হাতিয়া থানার বিএনপি সাবেক সভাপতি ফজলুল হক খোকনের নিকট জানতে, চাইলে শনিবার রাত পৌনে নয়টার সময় তিনি আমার দেশকে জানান আমি হাতিয়ায় আছি। কি হয়েছে আমি বলতে পারব না, আমি কোন পক্ষ নয়, নিরপেক্ষ। উল্টো এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছে? এ ঘটনায় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা শনিবার রাত নয়টার সময় আমার দেশকে জানান, সন্ধ্যার সময় বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইস পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ৬/৭ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। এতে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে হাতিয়া থানা পুলিশ ও নৌবাহিনী রয়েছে। |