মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৩:০৩:১২ এএম
শিরোনাম পরিবার নিয়ে দেখা যাবে ’দম’        কুড়িগ্রামে বৃটিশ শাসন আমলে নির্মিত ঝুকিপুর্ন ব্রীজে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও চলছে অবাধে       "নতুন প্রত্যয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃত্বে বাছির জামাল"       তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন :জনপ্রশাসন উপদেষ্টা        মাওনা চৌরাস্তায় লক্ষ টাকার সিসিটিভি ও লাইট ব্যানারের আড়ালে নেই সিসিটিভি মনিটরিং       চুয়াডাঙ্গায় চাদাবাজির সময় ২ ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক       নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ৪      
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিভাগে চরম ওষুধ সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি
মোহাম্মদ মনির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
Published : Monday, 24 November, 2025

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিভাগে চরম ওষুধ সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু বিভাগে চরম ওষুধ সংকট, বাড়ছে ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিভাগটিতে একজন শিশু কনসালটেন্টসহ চারজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করলেও জরুরি চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ইনজেকশন, সেলাইন ও অ্যান্টিবায়োটিকসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের মজুদ প্রায় শূন্য। পরিস্থিতি এমন যে, অনেক শিশুকে ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, Meropenem, Fluclox, Kacin, Cotson, Baby Saline, Electrodex, 10% DA, Microbore set, I/V Cannula (24), Bodicort—এসব অপরিহার্য ওষুধ ও সরঞ্জামের কোনো সরবরাহ নেই। নবজাতক ও শিশুদের জন্য দরকারি অ্যান্টিবায়োটিক সিরাপও মজুদ শেষ। বর্তমানে কেবল Ceftriaxone, Omeprazole, Tazid ও Windel Plus সীমিত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, যা বিপুল সংখ্যক রোগীর চাহিদা পূরণে একেবারেই অপ্রতুল।

শিশু বিভাগে নির্ধারিত বেড সংখ্যা ২৫টি হলেও ভর্তি রয়েছে ৫৭ জন। ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে NICU-এর ১১টি বেডই পূর্ণ, এতে গুরুতর অবস্থার নবজাতকদের জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত রোগী চাপের কারণে নার্সদের প্রতিদিনই দীর্ঘ সময় বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এই সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যরা। সরকারি সরবরাহ না থাকায় তাদের উচ্চমূল্যে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অনেকের পক্ষে এই খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সন্তানের চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যাচ্ছে। প্রাইভেট হাসপাতালে যাওয়ার মতো সামর্থ্য না থাকায় তারা সম্পূর্ণ অসহায়ের মতো পড়ে আছেন।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশু রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সংকট দ্রুত নিরসন না হলে জটিলতা বাড়বে এবং জীবনহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। চিকিৎসকদের ভাষায়, ওষুধ ও সরঞ্জাম ছাড়া তাদের পক্ষে সব চেষ্টা করেও যথাযথ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক, নার্স ও অভিভাবকরা। তাদের মতে, অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com