| শিরোনাম |
|
ডিসিইউ: প্রতিশ্রুতির কাগজে বন্দী ১ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ
শিহাব আল নাছিম :
|
![]() ডিসিইউ: প্রতিশ্রুতির কাগজে বন্দী ১ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ঢাকার সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) গঠনের ঘোষণা এসেছে বহু আগেই। নীতিগত অনুমোদন, খসড়া আইন প্রকাশ, মতামত গ্রহণ - সবকিছুই হয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত অধ্যাদেশ আর জারি হয়নি। ফলে প্রায় লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিশেষ করে ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ১১ হাজার শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকে আছে। পরিচয় সংকট, অ্যাকাডেমিক বিশৃঙ্খলা ও ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা সবকিছুই এখন সরকারের প্রতিশ্রুতির কাগজে বন্দী। রবিবার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন সাত কলেজের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার সারা রাত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং ঘোষণা দেন অধ্যাদেশ না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই রাজপথ ছাড়বেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি পরিষ্কার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি ছাড়া আর কোনো সমাধান নয়। ![]() ডিসিইউ: প্রতিশ্রুতির কাগজে বন্দী ১ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়া আইন প্রকাশ করলেও গত কয়েক মাসে কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। খসড়ার ওপর মতামত সংগ্রহ হয়েছিল ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এরপর তিন দফা বৈঠক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই ভর্তি হয়েছেন ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ক্লাস চালু না হওয়ায় তারা পড়াশোনায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নাইম হাওলাদার বলেন, “অধ্যাদেশ ছাড়া আমাদের কোনো পরিচয় নেই। আমরা ভর্তি হয়েছি, কিন্তু কোথায় ক্লাস করব, কী হবে ভবিষ্যৎ—কেউ জানি না। এ অবস্থায় বাড়ি ফেরার প্রশ্নই আসে না। অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।” রোববার দুপুরে শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা হাইকোর্ট মোড় অবরোধ করেন, যাতে সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তানমুখী যান চলাচল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। জনভোগান্তি এড়াতে রাতে তারা আবার শিক্ষা ভবনের সামনে ফিরে এসে অবস্থান শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রক্রিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে। অথচ গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন এখনও অধরা। আন্দোলনকারীদের ভাষায়, “আমরা কোনো এসি রুমে আলোচনায় বসব না। দাবি মানতে হবে—অধ্যাদেশ এখনই জারি করতে হবে।” এদিকে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের জায়গায় তারা এখনও কোনো স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেননি। এ অবস্থায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী আটকে আছে পরিচয়বিহীন শিক্ষা ব্যবস্থায়, অপেক্ষায় রয়েছে মাত্র একটি অধ্যাদেশের। অপরদিকে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী আন্দোলনরত এবং অপেক্ষায় অধ্যাদেশের আশায়। ডিসিইউ এর প্রতিশ্রুতি তাদের কাছে এক স্বপ্নের মতো, যা বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিদিনই হতাশা বাড়ছে। |