| শিরোনাম |
|
কাল থেকে মেট্রোরেলের যাত্রী সেবা বন্ধের ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() কাল থেকে মেট্রোরেলের যাত্রী সেবা বন্ধের ঘোষণা স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ না হওয়ায় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং মেট্রোরেলের সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পার হলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-র বেশি কর্মীর জন্য কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেওয়া কর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করলেও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট অ্যালাউন্স, ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল তৈরির কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত করার আশ্বাস দেয়। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। গত ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সার্ভিস রুলের অধিকাংশ ধারা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ সম্মত হলেও ‘বিশেষ বিধান’ সংক্রান্ত অধ্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অধ্যায়ে মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর জনবলকে ডিএমটিসিএলে আত্মীকরণের বিষয় জড়িত, যা কর্মচারীদের দাবি অনুযায়ী দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কর্মচারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদ বিতর্কিত ধারাটি বাদ দিতে আগ্রহী হলেও ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষের চাপের কারণে চাকরি-বিধিমালা প্রকাশ বিলম্বিত হচ্ছে। পূর্বঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রকাশ না হওয়ায় কর্মচারীরা জানিয়ে দেন, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেও বিধিমালা প্রণয়ন না হলে ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করা হবে এবং সব যাত্রী সেবা বন্ধ থাকবে। এতে মেট্রোরেলের প্রতিদিনের কয়েক লাখ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়লেও কর্মচারীরা বলেন, এর সম্পূর্ণ দায়ভার ডিএমটিসিএল কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। তারা দাবি করেন, চাকরি-বিধিমালা ছাড়া ক্যারিয়ার ও ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত নয়, তাই আশ্বাস নয়, সরাসরি প্রকাশিত সার্ভিস রুলই তাদের আন্দোলনের একমাত্র সমাধান। |