শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:০২:২১ এএম
শিরোনাম ঝালকাঠিতে জাল ভোট দিতে গিয়ে নরী আটক,২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড       ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে পোলিং অফিসারের মৃত্যু       ঢাকার ১৩টি আসনে ১৪শ' ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র: রিটার্নিং অফিসার       আলোচিত প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দেবেন       ‘গুড গভরনেন্স ফোরাম (জিজিএফ) এর প্রাক নির্বাচনী জনমত জরিপ’       প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনফ্রেলের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সাক্ষাৎ       যমুনা সেতু থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়      
কুষ্টিয়া-৪ আসন জরিপে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ‘ইসলামি আন্দোলন’ ‘হাতপাখা’র প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান
স্টাফ রিপোর্টার :
Published : Sunday, 14 December, 2025
কুষ্টিয়া-৪ আসন জরিপে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ‘ইসলামি আন্দোলন’ ‘হাতপাখা’র প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান

কুষ্টিয়া-৪ আসন জরিপে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে ‘ইসলামি আন্দোলন’ ‘হাতপাখা’র প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬। জাতীয় সংসদের ৭৮নং আসন হলো কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন। এ-ই আসনটি কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার ২টি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এই আসনে সর্বমোট ভোটার আছে ৪লক্ষ ১৫ হাজারেরও কিছুটা বেশি। তারমধ্যে কুমারখালী উপজেলাতে ভোটার আছে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার আর খোকসা উপজেলাতে আছে ১ লক্ষ ১৬হাজার। তবে ভোটার আনুপাতিক হারে পুরুষ-মহিলা প্রায় সমান সমান। খুলনা বিভাগের মধ্যে ব্যাতিক্রম এবং অতিব গুরুত্বপূর্ণ আসন হলো এ-ই টি। কারন, এ-ই আসন যে দল পায় সে-ই দল খুলনা বিভাগের মধ্যে ভালো একটি ফলাফল করে। এ-ই আসনটি সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়া জেলার শেষ সীমানায় হওয়াতে- রাজবাড়ী, পাবনা ও মাগুরা জেলার সাথে ভৌগোলিক সম্পর্ক রয়েছে। তা-ই এখানকার ভোটের উত্তাপ আশপাশের জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এ-ই সংসদীয় অঞ্চলে কুমারখালী উপজেলার মানুষ তাঁতশিল্পের উপর নির্ভরশীল এবং দারিদ্রমুক্ত আর খোকসা উপজেলা মানুষ কৃষি উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী। কুষ্টিয়া-৪ আসনটির অতীত নির্বাচনের ফলাফল বলে, কোন দল ও ব্যাক্তি এ-ই আসনে এককভাবে রাজত্ব করতে পারেনি। ৯০সালে স্বৈরাচার পতনের পর ৯১সালের নির্বাচনে আঃলীগ এ-ই আসন পায়।তখন প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয় জামায়াতের সাথে। বিএনপির অবস্থান তৃতীয় হয়। ১৯৯৬সালের নির্বাচনে অল্পকিছু ভোটের ব্যবধানে বিএনপি এ-ই আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট আঃলীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে। আবার ২০০৮ সালে বিএনপি – জামায়াত জোটে ধানের শীষের প্রার্থী আঃলীগের কাছে পরাজিত হয়। তারপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ দুইটি ইসলামি রাজনৈতিক দল, একটি হলো জামায়াতে ইসলামী,যারা ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং সর্বশেষ বিএনপির সঙ্গেও জোটবদ্ধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। অতথচ একাধিকবার সুযোগ আসলেও ইসলামি রাজনৈতিক অঙ্গণের আরেকটি বৃহৎ দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক নীতিমালাতে অটল থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ,বিএনপি ইত্যাদি কেন দলের সঙ্গেই জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেননি। এদিকে কুমারখালি-খোকসা আসনে ২০১৮সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে ধানের শীষের প্রার্থী ১৮ঘন্টাও মাঠে টিকে থাকতে পারেননি। তবে সে-সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামি আন্দোলন এ-ই নির্বাচন বর্জন করে। সর্বোপরি বিরোধী সকল বৃহৎ রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট করলেও ২০২৪সালে এককভাবে কিছু বাম দলকে নিয়ে নির্বাচন করেন আওয়ামিলীগ, তখন আঃলীগের নমিনেশন প্রাপ্ত সেলিম আলতাফ জর্জ ও আওয়ামী লীগের ডামী প্রার্থী আব্দুর রউফ চৌধুরীর মধ্যে ভোট যুদ্ধ হয়ে আব্দুর রউফ চৌধুরী জয়লাভ করেন। এরপরে শুরু হলো ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান, পতন হলো আওয়ামী লীগের। ২৪এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিচালিত সময়ে এবার আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬। গত ১১ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা অনুযায়ী ২৬সালের ফেব্রুয়ারির ১২তারিখে  জাতীয় সংসদ নির্বাচন,এই নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালি-খোকসা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, ইসলামি আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও খোকসা উপজেলা সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার খান, জামায়াতে ইসলামীর কুমারখালী উপজেলা নায়েবে আমীর আফজাল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফজলে নূর ডিকো, গণঅধিকার পরিষদের শাকিল আহমদ তিয়াস। বিএনপির হাইকমান্ড ৩রা নভেম্বর সারাদেশে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন তারমধ্যে এ-ই আসনের প্রার্থীও ছিলো। ওইদিন রাতেই বিএনপির এ-ই আসনের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র নরুল ইসলাম আনছার মশাল হাতে মাঠে নামেন। তারপর থেকে মশাল মিছিল, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন থেকে কাফনের কাপড় পড়ে মিছিল হয়ে আসছে। এ-ই আসনে বিএনপি ৪ ভাগে বিভক্ত। বর্তমান ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী , মনোনয়ন প্রত্যাশি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নরুল ইসলাম আনছার , কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মনোনয়ন প্রত্যাশি শেখ সাদী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাফেজ মঈনউদ্দীনের অনুসারীরা একে অপরের থেকে আলাদা । সবমিলিয়ে এ-ই আসনে দ্বিধাগ্রস্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা। ১৯৯১ সালে অল্প ব্যবধানে আঃলীগের কাছে পরাজিত হয়, ১৯৯৬ সালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত বিএনপিকে সাপোর্ট করে। তবে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ তার এক নীতিতেই এককভাবে নিজদলের কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন, হাঁটি হাঁটি পা পা করতে করতে আজ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়ার কুমারখালি ও খোকসা আসনে একটি বৃহৎ জনশক্তি তৈরি করে ফেলেছেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সহ তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন ইসলামি শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামি যুব আন্দোলন ও ইসলামি ছাত্র আন্দোলন এর নেতাকর্মীরা এই আসনটির প্রতিটি ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে তাদের দুর্গ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সারাদেশের মতোই এ-ই আসনের দুইটা উপজেলাতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর নেতাকর্মীরা ব্যাপক আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। যার কারনে তাদের একাধিক নেতাকর্মী নিহত ও বহু সংখ্যাক আহত হয়েছেন। এদিকে বর্তমানে অনলাইন ও সরজমিন  জরিপে দেখা যায়, ইসলামি আন্দোলন এর আওতাধীন  মহিলা আন্দোলন শাখার সংগঠনটি আরও মজবুত এবং সক্রিয়। এছাড়াও ইসলামি শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামি যুব আন্দোলন সহ ইসলামি আন্দোলনের একাধিক সহযোগী সংগঠনের কাজ এই আসনে নিয়মিত হয়ে আসছে। এদিকে এ-ই আসনের দুইটা উপজেলাতে জামায়াতে ইসলামীর দুইটা উপজেলা সহ বিভিন্ন শাখায় কমিটি আছে। কিন্তু কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালি খোকসার এই আসনের কার্যক্রমে ব্যাপকভাবেই এগিয়ে আছেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে অপরদিকে কুষ্টিয়া-২ ও কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতী আমির হামজা ও আব্দুল গফুর ব্যাপকভাবে এগিয়ে আছেন ময়দানে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর কমিটি ছিলো শুধুমাত্র কাগজকলমে, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট কর্তৃক বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে কুমারখালি-খোকসা আসনে জামায়াতে ইসলামী তেমন কোন কার্যক্রম চালাতে পারেননি।তবে ৫ ই আগষ্টের পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামী আবারও সক্রিয় হয়েছেন। অথচ ফ্যসিস্ট আমলেই ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ দেশব্যাপী আন্দোলন সংগ্রাম চলমান রেখেছিলো এমনকি ২৪এর ৫ই আগষ্ট এর গণ-অভ্যুত্থানের্ সর্বপ্রথম কারফিউ ভাঙেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করিম।  এছাড়াও কুষ্টিয়ায় ইসলামি আন্দোলন আন্দোলনের পাশাপাশি ঐক্যমত পোষণকারী সমমনা ৮দলের মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকসা মার্কার কার্যক্রম কুমারখালী উপজেলাতে কিছুটা চলমান রয়েছে এবং জোটের বাকি ৫ দলের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বেশ অস্বস্তিতে আছে। তার বিরুদ্ধে দলের ভিতর থেকে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের মাত্রা এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে তিনি ঠিকমতো গণসংযোগই করতে পারছেন না। ভোটের আগ পর্যন্ত এমন অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকলে ভোটের ফলাফলে নিশ্চিত বিপর্যয় ঘটবে বলে মনে করেন এ-ই আসনের রাজনীতি বিশ্লেষকরা। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রিয় ব্যাক্তি ও প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছেন। তারজন্য ৫ই আগষ্টের পর থেকেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রামে পর্যায়ে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করে আসছেন নেতাকর্মীরা। যার কারণে আনোয়ার খান এ-ই আসনে জনপ্রিয় মুখ থেকে জননেতায় পরিণত হয়েছেন। অনেকেই বলেন, হাতপাখার প্রার্থী আনোয়ার খান এখনই অঘোষিত এমপি,জনতার এমপি। ধারণা করা হচ্ছে, ভোট সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হলে ভূমিধস জয় পাবে ইসলামি আন্দোলনের হাতপাখার এ-ই সাংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফজাল হোসেন এ-ই আসনে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী হলেও ইসলামি সমমনা ৮দল ঐক্যের প্লাটফর্মে আসায় এই আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় আসনটি পেতে পারেন হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান। ৫ ই আগষ্টের আগে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী আফজাল হোসেন দল নিষিদ্ধ থাকায় এ-ই অঞ্চলে কেন কাজে অংশগ্রহণ করতেননা। অথচ বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আলহাজ্ব আনোয়ার খান হাতপাখার প্রার্থী হয়ে এমপি পদে আসার আগ থেকে দীর্ঘদিন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও খোকসা উপজেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও আলহাজ্ব আনোয়ার খানের নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যার দরুন  কুষ্টিয়া জেলার মধ্যে সর্বচ্চ রেমিটেন্স ও করদাতা হিসেবে জেলা প্রশাসকের নিকট পুরষ্কৃত হয়েছেন। সেইসাথে কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালি খোকসার সন্তান হিসেবে আলহাজ্ব আনোয়ার খান মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা, স্কুল, অসহায়দের পুরে যাওয়া বাড়ি নির্মাণ, নিরীহ পরিবারের কন্যাদের বিবাহ খরচ সহ কুমারখালি ও খোকসা উপজেলার হাজারও মটরজান রিকশা এবং ভ্যান ওয়ালাদের পৌরসভার লাইসেন্স করে দেওয়া, বিদ্যুৎ খরচ, জনদুর্ভোগ নিরসন ইত্যাদি সহ এমন কোন কাজ নেইযে আলহাজ্ব আনোয়ার খান করছেননা। জনগণের নিকট অঘোষিত এমপি হিসেবে আলহাজ্ব আনোয়ার খান পরিচিত। আলহাজ্ব আনোয়ার খান বলেন, আমি এমপি নয় জনগণের সেবক হতে চাই, আমার আসনে আমার জনগণ হবে এমপি- আর আমি হবো সেবক। এভাবেই সকল ঘরে ঘরে জনগণের হৃদয়ের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়ে মনজয় করেছেন হাতপাখার এই এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান।  যার সকল তথ্য প্রমাণ কুষ্টিয়া-৪ আসনের জনগণ নেট দুনিয়ায় ভাইরাল করে দিয়েছেন। আলহাজ্ব আনোয়ার খান যার কারণে দেশব্যাপী আলোচিত এবং প্রশংসিত এক মুখ। খোকসা এলাকাবাসী জানান আলহাজ্ব আনোয়ার খান আমাদেরকে আগাগোড়াই বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসছেন, যে সহযোগিতা আমরা ইতিপূর্বের সংসদ সদস্যদের থেকেও পায়নি, তাই আমরা খান সাহেবকে এমপি পদে দাঁড়াতে একপ্রকার বাঁধ্য করেছি।আমরা পেট খলি  এমপি চাইনা, আনোয়ার খানকে আল্লাহ তায়ালা যা সম্পদ দিয়েছেন তিনি তার সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের অংশের অগ্রভাগই জনগণের মাঝে প্রতিনিয়ত বিলিয়ে দেন। এমপি নির্বাচিত হলে তিনি অন্তত দুর্নীতিবাজ হবেননা। জনগণের এমন মন্তব্য এবং আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতেই ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) আলহাজ্ব আনোয়ার খানকে মনোনীত করে তার হাতে হাতপাখা প্রতিক তুলে দেন। এদিকে আলহাজ্ব আনোয়ার খান তার খোকসা-কুমারখালি আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায়, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলার নেতাকর্মীরা আশাবাদী যে, ইসলামি সমমনা ৮দলের থেকে এই জেলার ৪টি আসনের মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালি-খোকসা) আসনটি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতিকই ৮দলীয় জোটের চুড়ান্ত নমিনেশন পাবে। যার কারণে বাকি সমমনা ৭দলের   কার্যক্রম দলীয় চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ গতিতে চলমান রয়েছে। এদিকে জনগণ অভিযোগ তুলে বলছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খানের প্রতি যে জনসমর্থন রয়েছে- এতে হিংসাত্মক মনোভাব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী তথ্য সন্ত্রাসী কায়দায় অপপ্রচার চালাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এমন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকায় আলহাজ্ব আনোয়ার খানের সম্ভাবনা রয়েছে ব্যাপক, বিএনপির নমিনেশন পাওয়া না পাওয়া প্রার্থীদের কোন্দলের যেরে এখন সবার মুখে শোনা যাচ্ছে যার নাম তিনিই হলেন হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান। এবিষয়ে কুষ্টিয়া জর্জ কোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম জানান, ৫ই আগষ্টের পর থেকে দেশে সম্পূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন আর আওয়ামীলীগ বিএনপির ভোটের হিসেবে নেই। মানুষ বুঝতে শিখেছে এবং সজাগ হয়েছে সুতরাং অনেককিছুই তারা জানেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিকালে স্থানীয়ভাবে অনলাইন এবং অফলাইনে যতোগুলো জরিপ হয়েছে সর্বাধিক গড় হিসেবে বেশিরভাগ জরিপে হাতপাখার প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে আছে। মানুষ সৎ যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীর পক্ষে বলেই হাত-পাখার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইসলামি আন্দোলন কুমারখালীর সেক্রেটারি ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, এই আসনে বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত এবং দলীয় নানান কোন্দল/যুদ্ধ লেগেই আছে, প্রতিনিয়ত এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে প্রচার এবং তাদের দলীয় নমিনেশন না পাওয়া নিয়েই দন্দ এখনও চলমান। সর্বদিক থেকে আমরা দেখছি আমাদের প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থন। তাই আমরা ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালি-খোকসা)  আসনে সমমনা ৮দলীয় জোটের চুড়ান্ত নমিনেশন এবং প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খানের বিজয়ের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী। তাছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন সাংগঠনিকভাবে ভালো শক্তিশালী। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে ইসলামী আন্দোলনের সংগ্রাম ছিলো তিব্র। যার কারণে, তাদের অনেক কর্মী নিহত হয়েছে- আহত হয়েছে, তাদের নামে অসংখ্য রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এই কারনে এ অঞ্চলের লোক ইসলামী আন্দোলনকে খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। বর্তমান পরিবেশ যেই অবস্থায় রয়েছে, এই অবস্থায় থাকলে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী ব্যাপক ভোটে জয়লাভ করবে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক ছাত্রনেতা সাজ্জাদ সাব্বির এই বিষয়ে জানান, এ-ই আসনে ইসলামি আন্দোলন দল ও প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়। বিভিন্ন জরিপেও তাই উঠে এসেছে। ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী আলহাজ্ব  আনোয়ার খান ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জিতবে। একই কথা বলেন ঐ এলাকার মাদ্রাসা প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষক মানুষ। শান্তিতে ঘুমাতে চাই, নিরাপদে বসবাস করতে চাই এবং দেশে নৌকা ধান লাঙ্গল সবকিছুই দেখা শেষ, এই কারণে এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতীক হাতপাখায় ভোট দেবো। এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে গত ১১ই ডিসেম্বর রোজ বৃহষ্পতিবার। তফসিল ঘোষণার সাথেসাথে নির্বাচনী মাঠ আরো গরম হয়ে উঠেছে। কে হবে! আগামীর কুষ্টিয়া-৪ আসনে জনগণের এমপি! তাই জনসাধারণ আশঙ্কায় আছে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি-না!! এ-ই আসনের মানুষ মনে করে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার খান ব্যাপক ভোট পেয়ে জয়লাভ করবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com