| শিরোনাম |
|
সাতক্ষীরার উপকূলে চিংড়ির ভেড়িতে বাণিজ্যিক নারিকেল চাষে নতুন দিগন্ত
(গণকন্ঠ প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা):
|
![]() সাতক্ষীরার উপকূলে চিংড়ির ভেড়িতে বাণিজ্যিক নারিকেল চাষে নতুন দিগন্ত সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূলীয় লবণপ্রবণ জনপদে দীর্ঘদিন ধরেই বাগদা চিংড়ি, ভেটকি, পারসে, পায়রা ও অন্যান্য লবণাক্ত পানির মাছ চাষই ছিল কৃষিশীল অর্থনীতির প্রধান ভরসা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা—চিংড়ি ঘেরের ভেড়িতে বাণিজ্যিকভাবে নারিকেল চাষ। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছেন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের চিংড়ি চাষি জি এম শফিউল্লাহ। বহু বছর ধরে গলঘেসিয়া নদীর জোয়ার–ভাটার লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি ও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ চাষ করে আসলেও, ঘেরের চারপাশের ভেড়িগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকতে দেখে তিনি ভিন্নধর্মী চিন্তা করেন। ফলশ্রুতিতে ভেড়িতেই শুরু করেন নারিকেল চাষ। চার বছর আগে তিনি ভিয়েতনামি ও কেরালা জাতের মোট ৩৫টি নারিকেল চারা সংগ্রহ করে প্রায় এক একর আয়তনের ঘেরের ভেড়িজুড়ে রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার ফলে মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ২৮টি গাছে ফলন আসে। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ৫০ থেকে ৭০টি করে নারিকেল ঝুলছে, যা উপকূলীয় কৃষিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চিংড়ি ঘের ও নারিকেল বাগানের দেখভালকারী মালী নমিরুল ইসলাম বলেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে গাছে ফল আসবে ভাবিনি। আরও দুই–এক বছরের মধ্যে প্রতিটি গাছ থেকে ২০০ থেকে ৩০০টি নারিকেল পাওয়া যেতে পারে। এই সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক চাষিই নারিকেল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।” স্থানীয় বাসিন্দা আদর আলী, আইয়ুব হোসেন ও জি এম বিল্লাল হোসেন জানান, লবণাক্ত পানির ঘেরের ভেড়িতে নারিকেল চাষ সম্ভব এটা আগে কেউ কল্পনাও করেননি। শফিউল্লাহর এই উদ্যোগ উপকূলের মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। তাঁদের মতে, সরকারি প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা পেলে এই মডেল বৃহত্তর অঞ্চলে সহজেই সম্প্রসারণ করা সম্ভব। কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়াশিম উদ্দিন জানান, উপকূলীয় এলাকায় ভিয়েতনামি ও কেরালা জাতের পাশাপাশি দেশীয় নারিকেল চাষেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে নারিকেল চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নারিকেল উপকূলীয় অঞ্চলে লাভজনক ও সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসল হতে পারে।” কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় কৃষিতে টেকসই ও জলবায়ু–সহনশীল বিকল্প ফসল এখন সময়ের দাবি। সেই বাস্তবতায় চিংড়ি ঘেরের ভেড়িতে নারিকেল চাষ হতে পারে লাভজনক, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ একটি সমাধান। এটি শুধু কৃষকের আয় বাড়াবেই না, পাশাপাশি উপকূলীয় জনপদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। |