| শিরোনাম |
|
বিয়ের পর টানা ৩ দিন টয়লেট ব্যবহার নিষেধ নব-দম্পতির!
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() বিয়ের পর টানা ৩ দিন টয়লেট ব্যবহার নিষেধ নব-দম্পতির! তিদোং জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিন দিনের নিয়ম পালন করলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ এবং কলহমুক্ত। বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। এই সময়ে তারা ঘরের বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করা নিষেধ এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে টয়লেট ব্যবহার বারণ। খাদ্য ও পানীয়ও সীমিত রাখা হয়, যাতে শারীরিক চাপ কম থাকে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখেন যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ না করে। তিদোং জনগোষ্ঠী মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। কৃষি, মাছধরা ও বাণিজ্য তাদের প্রধান জীবিকা। এই সমাজে বিবাহকে শুধু দু’জন মানুষের সম্পর্ক নয়, বরং দুটি পরিবার বা পুরো সম্প্রদায়ের বন্ধনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। তিদোং সমাজে বিশ্বাস করা হয়, নবদম্পতি যদি এই নিয়ম ভঙ্গ করে, তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে। আর যারা সফলভাবে তিন দিন পার করেন, তাদের সংসারকে আশীর্বাদপুষ্ট মনে করা হয়। নৃগবেষকদের মতে, এই প্রথার ইতিহাস কয়েকশ বছর পুরোনো। একসময় বিয়ে ছিল পারিবারিক জোটের প্রতীক। সম্পর্ককে পবিত্র ও অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার চালু হয়েছিল, যা সময়ের সঙ্গে সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব বা মলত্যাগ না করার প্রথাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্ষতিকর হিসেবে ধরা হয়। তাই আধুনিক সময়ে অনেক তিদোং পরিবার এই নিয়ম শিথিলভাবে পালন করছে। কেউ প্রতীকীভাবে অল্প সময় মেনে চলে, আবার প্রয়োজনে টয়লেট ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়। তিদোং সমাজে এই ৭২ ঘণ্টাকে শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা হিসেবে নয়, নতুন জীবনের প্রতীকী সূচনা হিসেবে দেখা হয়। এটি পারস্পরিক ধৈর্য, সহনশীলতা এবং মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হয়। বাইরের সমাজের কাছে প্রথাটি অদ্ভুত মনে হলেও, তিদোং জনগোষ্ঠীর কাছে এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিক শিক্ষা ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে রীতিটির গুরুত্ব কিছুটা কমলেও, এটি এখনো পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি। |