| শিরোনাম |
|
নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিত অপপ্রচার
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিত অপপ্রচার সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও পুরোদমে নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরকারি সূত্রের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশ-বিদেশ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। ব্যক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল ও অনলাইন টকশোর মাধ্যমে একতরফা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অপপ্রচারকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধে একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে। যারা এখনো সংশয় তৈরি করছে, তাদের প্রোফাইল সরকার স্পষ্টভাবে জানে। তারা আগে কী ছিল, তাদের ভূমিকা কী ছিল? তারা কেন সংশয় ছড়াচ্ছেন? অপপ্রচার শনাক্তে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া পোস্টার, বিকৃত ভিডিও ও মনগড়া বক্তব্য ছড়িয়ে নির্বাচনের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। এ অবস্থায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে—এমন বক্তব্যও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এদিকে প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে—এমন অভিযোগও কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তোলা হচ্ছে, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। বুধবার জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় “দলীয় ডিসি” নিয়োগ করা হয়েছে। এ ধরনের ডিসি-এসপি যারা আছেন তাদের অপসারণ করতে হবে এবং নিরপেক্ষ ডিসি-এসপিকে সেখানে নিয়োগ করতে হবে। না হলে নির্বাচন “প্রশ্নবিদ্ধ” হবে।’ এর আগে মঙ্গলবার এনসিপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, নাকি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো প্রশাসনের একতরফা আচরণ, রাতের ভোট এ ধরনের একটি ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হয়ে যাবে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ অন্যদিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই এবং জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত একটি গোষ্ঠী অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিকল্প নেই এবং নির্বাচনই একমাত্র পথ। বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের আগে অপপ্রচার শনাক্তে মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল ছয় মাস আগেও ভেবেছিল তারা ক্ষমতায় এসে গেছে। যাদের সাংগঠনিক ভিত্তি নেই, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নেই সেই দল এখন বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলছে। আমি স্পষ্টভাবে বলছি, কোনো অপপ্রচারই কাজে আসবে না। যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে, দেশবাসী তাদের চিহ্নিত করবে।’ এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে কোনো অনিশ্চয়তা দেখছি না। আশা করি যথাসময়ে নির্বাচন হবে এবং হতেই হবে। তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী চাচ্ছে যেন নির্বাচন না হয়। তারা নানান ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ঘিরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। প্রশাসনসহ সরকার এখন একদিকে ঝুঁকে গেছে। প্রশাসনে যে লোকগুলো রয়েছেন তারা ঠুনকো অজুহাতে আমাদের মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করে দিয়েছেন।’ |