| শিরোনাম |
|
জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান,কালের সাক্ষী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়
গনকণ্ঠ প্রতিবেদক (গাইবান্ধা)
|
![]() জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ পাঠদান,কালের সাক্ষী ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টির নামে কাগজে-কলমে প্রায় ২৬ বিঘা জমি থাকলেও বাস্তবে কর্তৃপক্ষের দখলে রয়েছে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ বিঘা। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের বেশিরভাগ সম্পত্তি বিভিন্ন মহলের দখলে চলে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন জায়গা প্রায় ১ একর ৫৫ শতক। সামনে রয়েছে বড় খেলার মাঠ, যেখানে প্রতিবছর বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হলেও মূল ভবনের দিকে নেই কারও নজর। বিদ্যালয়টিতে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রায় ২০০ ফুট দৈঘের্যর একটি একতলা ভবনে ১২টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। পরে ২০১০ সালে একটি তিন কক্ষবিশিষ্ট ও দুটি দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষক অফিস, কম্পিউটার কক্ষ ও মাত্র দুটি ভাল শ্রেণিকক্ষে চলে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থীর পাঠদান। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে পুরনো ভবনগুলোতে। ছাদের পলেস্তারা উঠে ঢালাইয়ের রড বেরিয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, নষ্ট হয়ে গেছে জানালা ও দরজা। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন সামনে এলেই জনপ্রতিনিধিরা বিদ্যালয় মাঠে দাড়িয়ে উন্নয়নের আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোটের পর আর কেউ এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজ নেন না। এদিকে, প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় ভরতখালী উচ্চ বিদ্যালয়। এখানে অন্তত পাঁচটি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। নাজুক অবকাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই যুগ ধরে চলছে পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নতুন ভবন নির্মাণের আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে দুই বছরেরও বেশি সময় আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। সরেজমিনে কথা হলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন ভবন না থাকায় পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে খুব কষ্ট করে ক্লাস করতে হয়। অভিভাবক জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যালয়ের এক সময় অনেক সুনাম ছিল। সংস্কার ও উন্নয়ন হলে সেই ঐতিহ্য আবার ফিরবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম মণ্ডল বলেন, নতুন ভবন হলে পাঠদান সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়বে। |