| শিরোনাম |
|
চাঁদাবাজ-দখলবাজদের হাতে ক্ষমতা গেলে কেউই নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি
গনকণ্ঠ ডেস্ক :
|
![]() চাঁদাবাজ-দখলবাজদের হাতে ক্ষমতা গেলে কেউই নিরাপদ থাকবে না: জামায়াত সেক্রেটারি শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফ্যাসিস্টরা আর ক্ষমতায় ছিল না। তাহলে এরপর যারা চাঁদাবাজি করেছে, ঘের দখল করেছে, এমনকি বাজারে বাদাম বিক্রেতার কাছ থেকেও চাঁদা তুলেছে, তারা কোন রাজনৈতিক শক্তির লোক—এই প্রশ্ন জাতির সামনে স্পষ্ট। চাঁদা না দেওয়ায় মানুষকে পাথর মেরে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের শক্তির হাতে ক্ষমতা গেলে কোনো মানুষের শান্তি বা নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ—সব প্রতীকের দলই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে; এমনকি সামরিক শাসনও এসেছে। কিন্তু কেউই বুক চিতিয়ে বলতে পারেনি যে তারা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত শাসন উপহার দিয়েছে। প্রত্যেক আমলেই দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের সংসদ সদস্য থাকার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, তিনি যখন এমপি ছিলেন, তখন ডুমুরিয়া ছিল ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। সন্ধ্যার আগেই মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত, প্রতিদিন খুন, গুম, হাত-পা কাটার আতঙ্কে মানুষ দিন কাটাত। সে সময় তিনি দুটি অঙ্গীকার করেছিলেন—একটি সন্ত্রাস দমন, অন্যটি শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন। তিনি দাবি করেন, এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে এক টাকাও নেননি, এমনকি এক কাপ চাও নয়। উন্নয়ন কাজের পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান। স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা, বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল, শ্মশানসহ সব ধরনের উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বর্তমান নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। একজনকে এমপি বানানো হবে, তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে, আর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও দখলবাজি চালাবে—এটাই পুরোনো চিত্র। তিনি এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে ১৩ বছরের সাজা এবং হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতার কথাও তুলে ধরেন। সন্ত্রাস দমনে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে; কেউ পালিয়েছে, কেউ এলাকা ছেড়ে গেছে। এ সময় কিছু নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের রক্ষায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সাড়ে সাত বছর কারাবন্দি থাকার কারণে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, এমনকি ভোট দেওয়ার সুযোগও পাননি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিবেক দিয়ে বিচার করতে হবে—কে দুর্নীতিমুক্ত, কে মানুষের ক্ষতি করেনি, কে সন্ত্রাস দমন করেছে। চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাতে আর ক্ষমতা দেওয়া যাবে না। ভোটের আমানত সৎ ও যোগ্য মানুষের হাতেই তুলে দিতে হবে। |