| শিরোনাম |
|
সাভারে ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় উদঘাটন
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() সাভারে ‘সিরিয়াল কিলার’ সম্রাটের আসল পরিচয় উদঘাটন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালেই ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, সবুজ শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম পান্না শেখ, তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে জীবন যাপন করছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, সবুজ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত বা নির্জন ভবনে নিয়ে যেত এবং তাদের অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক বা সন্দেহের কারণে নির্মমভাবে হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনার কয়েক দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে রেখে অন্য এক যুবকের হত্যার পর তাকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, সোমবার আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সবুজ ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এরপর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় আদালত পুলিশ। সাভার মডেল থানার আশপাশে সম্রাট বিভিন্ন সময় নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ বা ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ হিসেবে পরিচয় দিত। তবে যে ঠিকানা ও নাম বলেছে, তা পুলিশের দ্বারা এখনো নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ ধারণা করছে, সে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “খুনের পেছনের কারণ সম্পর্কে সে একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করার চেষ্টা চলছে।” ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত পূর্বে যে ঠিকানা ও পারিবারিক পরিচয় দিয়েছে, তার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, অভিযুক্ত মানসিকভাবে বিকৃত এবং সাইকোপ্যাথিক আচরণের পরিচয় দিয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সম্রাট নামের ওই ব্যক্তি তিন-চার বছর ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করত, মানুষের কাছ থেকে টাকা চাইত এবং মাঝে মাঝে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। তার প্রকৃত পরিচয় বা ভয়ঙ্কর অপরাধের বিষয়ে কেউ কিছুই জানত না। পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে একাধিক অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের লাশ উদ্ধার হয়। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি দুটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সম্রাটকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব তথ্য ও পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তের অতীত অপরাধ ইতিহাস এবং কারাগারে থাকার তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। |