মঙ্গলবার ১৭ মার্চ ২০২৬ ০২:০৩:৫৮ এএম
শিরোনাম পরিবার নিয়ে দেখা যাবে ’দম’        কুড়িগ্রামে বৃটিশ শাসন আমলে নির্মিত ঝুকিপুর্ন ব্রীজে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও চলছে অবাধে       "নতুন প্রত্যয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নেতৃত্বে বাছির জামাল"       তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন :জনপ্রশাসন উপদেষ্টা        মাওনা চৌরাস্তায় লক্ষ টাকার সিসিটিভি ও লাইট ব্যানারের আড়ালে নেই সিসিটিভি মনিটরিং       চুয়াডাঙ্গায় চাদাবাজির সময় ২ ভুয়া ডিবি পুলিশ আটক       নকলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, আহত ৪      
গণভবনের জাদুঘরে ইউনূস: এই অধ্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে
গনকণ্ঠ ডেস্ক
Published : Tuesday, 20 January, 2026
গণভবনের জাদুঘরে ইউনূস: এই অধ্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে

গণভবনের জাদুঘরে ইউনূস: এই অধ্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে

বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে নির্মিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভবিষ্যতে যেন এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন আর না হয়।”


মঙ্গলবার বিকেলে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা।


প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেল ৩টার দিকে মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরে পৌঁছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস, আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে সংঘটিত দমন-পীড়নের চিত্র ঘুরে দেখেন। এ সময় জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি তাকে অবহিত করা হয়।


পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই না ভবিষ্যতে কোথাও আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয়, তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে।”


সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা প্রধান উপদেষ্টাকে পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্যও সেখানে রাখা হয়েছে।


পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে বিগত শাসনামলে ‘গুম, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার’ চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


এ সময় তিনি বলেন, “এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।”


দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে।”


আওয়ামী লীগ আমলে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে, সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে। আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা যেন উপলব্ধি করতে পারে, কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল!


“এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি, সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।”


জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে–এটাই আমাদের শিক্ষা।”


এ সময় জাদুঘর নির্মাণে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন,
“অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলেমেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।


“আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যত রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন।


উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।


এছাড়া গুমের শিকার পরিবারগুলোর সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা তুলি, গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com