| শিরোনাম |
|
ভিক্ষার টাকায় সুদের ব্যবসা: তিনটি বাড়ির মালিক, রয়েছে প্রাইভেট কারও
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() ভিক্ষার টাকায় সুদের ব্যবসা: তিনটি বাড়ির মালিক, রয়েছে প্রাইভেট কারও তবে তিনি কখনো কারও কাছে সরাসরি ভিক্ষা চাইতেন না। এমনভাবে বসে থাকতেন যে মানুষ নিজ উদ্যোগেই তাকে অর্থ সহায়তা দিত। এই ব্যক্তির নাম মঙ্গিলাল। তদন্তে জানা গেছে, তিনি একজন কোটিপতি শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি—যার একটি সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত। পাশাপাশি রয়েছে একটি মারুতি সুজুকি গাড়ি এবং তিনটি অটোরিকশা। সম্প্রতি ইন্দোরে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের ভিক্ষুকবিরোধী অভিযানের সময় মঙ্গিলালের বিষয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। গত শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। এলাকায় একজন কুষ্ঠরোগী নিয়মিত ভিক্ষা করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হলেও পরে পুরো চিত্র ভিন্ন বলে ধরা পড়ে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো কথা না বলেই সাহায্য পাওয়ার কৌশল রপ্ত করেছিলেন মঙ্গিলাল। প্রতিদিন ভিক্ষা করে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি পেতেন। কিন্তু তার আসল ‘ব্যবসা’ শুরু হতো সন্ধ্যার পর। জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গিলাল জানিয়েছেন, ভিক্ষার অর্থ তিনি খরচ করতেন না। বরং সেই টাকা সুদের বিনিয়োগে ব্যবহার করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য সুদে টাকা দিতেন এবং প্রতিদিন সন্ধ্যার পর নিজেই সুদের টাকা সংগ্রহ করতেন। সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাবে, তিনি প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ রুপি ঋণ দিয়েছেন। এখান থেকে সুদসহ প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজার রুপি আয় করতেন। একসময় যাকে নিঃস্ব বলে মনে করা হতো, বাস্তবে দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার তিনটি বাড়ি রয়েছে, যার একটি তিনতলা ভবন। পাশাপাশি তিনটি অটোরিকশা দৈনিক ভাড়ায় দেওয়া হয়। মারুতি সুজুকি ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত গাড়িটিও ভাড়ায় ব্যবহার করা হয়। প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় মঙ্গিলাল একটি বাড়ি পেয়েছেন, যেখানে একটি শয়নকক্ষ, বসার ঘর ও রান্নাঘর রয়েছে—যদিও এর আগেই তার একাধিক সম্পত্তি ছিল। অভিযান পরিচালনাকারী নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা দিনেশ মিশ্র জানান, মঙ্গিলালকে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দিনেশ মিশ্র বলেন, “মঙ্গিলাল ২০২১ সাল থেকে ভিক্ষা করছেন। বর্তমানে তাকে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সব তথ্য প্রতিবেদন আকারে প্রস্তুত করে কালেক্টরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সরকারি এক জরিপে জানানো হয়েছে, ইন্দোরে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ভিক্ষুক চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০ জনকে বোঝানোর পর তারা ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে দিয়েছেন। এক হাজার ৬০০ জনকে উদ্ধার করে পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২টি শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি |