| শিরোনাম |
|
৫ লাখ স্নাতকধারী বেকারকে বিনা সুদে ঋণ দেবে জামায়াত
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() ৫ লাখ স্নাতকধারী বেকারকে বিনা সুদে ঋণ দেবে জামায়াত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এ এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। দিনব্যাপী এই নীতি সম্মেলনে নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে নীতিগত দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, দেশের রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়া হবে। জামায়াতের ঘোষণায় বলা হয়, দলটি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বড় কলেজগুলোকে ধাপে ধাপে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিল্প খাতের বিষয়ে আগামী তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মাশুল বৃদ্ধি না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্ধ শিল্পকারখানা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে চালু করা, শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি ও সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধার কথা জানানো হয়। জামায়াত আরও জানায়, তাদের শাসনামলে সব নিয়োগ মেধাভিত্তিক হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ, কর ও ভ্যাট ধাপে ধাপে কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে কর ১৯ শতাংশ ও ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঘোষণা করে দলটি। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যেখানে কর, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার তথ্য একীভূত থাকবে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ফার্স্ট থাউজেন্ড ডেজ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে গর্ভধারণ থেকে শিশুর দুই বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়। তরুণদের জন্য জামায়াতের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নতুন মন্ত্রণালয় গঠন, পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রতিটি উপজেলায় গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপন এবং প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গড়ে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এ ছাড়া নারী, তরুণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাঁচ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি, ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর কথাও জানানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তি খাত উন্নয়নে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করে জামায়াত জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি-ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরে প্রবাসী আয় দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানো এবং প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ হিসেবে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরে দলটি। |