| শিরোনাম |
|
এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়: প্রধান উপদেষ্টা
গনকণ্ঠ ডেস্ক
|
![]() এবারের নির্বাচন যেন ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত হয়: প্রধান উপদেষ্টা বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন উপলক্ষে আয়োজিত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আসলে নির্বাচন কমিশনকে সাহায্য করব, এটাই আমাদের কাজ।’ তিনি বলেন, নির্বাচন জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করে এটিকে একটি ঐতিহাসিক অর্জনে পরিণত করতে হবে। নির্বাচনের দিন যেন কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। ‘১২ ফেব্রুয়ারি কোথাও যেন কোনো গলদ না থাকে।’ ড. ইউনূস বলেন, ‘২০২৬ সালের নির্বাচন যেন এমন একটি নির্বাচন হয়, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ তৈরি করবে।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে প্রস্তুতি ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ‘আজ থেকে শুরু, ১২ ফেব্রুয়ারি হবে ফাইনাল। ইসির নির্দেশই এখন সবচেয়ে বড় নির্দেশ, ইসির নির্দেশনা মেনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে মূল কমান্ডের দায়িত্বে থাকবে। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সবকিছু মনিটরিং করা হবে। বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয়ে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ঘিরে দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের আগ্রহ রয়েছে। ‘তারা বিষয়টিকে খুবই সিরিয়াসলি নিয়েছেন, আমাদেরও এ বিষয়ে সুপার সিরিয়াস থাকতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের মধ্যেই নির্বাচন পরিচালনা করবেন। সভায় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ জানান, নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৬টি দেশের পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ৫৬ জন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে। সাইবার স্পেসে অপতথ্য ও গুজব বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, নির্বাচনের দিন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, ভোটের দিন সব কেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রয়োজনে তারা ভোটকেন্দ্রের আঙিনায় প্রবেশ করতে পারবে।’ স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানান, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বডি ক্যামেরা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে যাবে। ভোটের চার দিন আগে সব বাহিনী মোতায়েন করা হবে এবং ভোটের পর আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। বডি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরা সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সাফল্য পাওয়া সম্ভব। প্রয়োজনে আরও ঘন ঘন সমন্বয় সভা আয়োজন করা হবে বলেও তিনি জানান। |