| শিরোনাম |
|
বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার মহাবিপদে ভারত!
ক্রীড়া ডেস্ক
|
![]() বাংলাদেশ ইস্যুতে এবার মহাবিপদে ভারত! সামনে অনুষ্ঠিতব্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ সম্প্রতি সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। তাদের গ্রুপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার অনুরোধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রত্যাখ্যান করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ফলে গত এক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও সড়ক সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। কলকাতা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানও সংহতি প্রকাশ করে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি ভাবছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার আইসিসির, তবে বিসিসিআই আইসিসির ওপর প্রভাব খাটিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না দিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আইসিসি নিজেদের স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দাবি করলেও অতীতে ভারতের অনুকূলে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সম্প্রচার ও আর্থিক যুক্তি দেখিয়ে ভারতকে গায়ানায় সেমিফাইনাল খেলার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। আইসিসিতে বিসিসিআইয়ের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান জয় শাহ আগে বিসিসিআইয়ের সচিব ছিলেন। তার বাবা অমিত শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত আগে ভারতের জিওস্টার মিডিয়া গ্রুপে শীর্ষ পদে কর্মরত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে আইসিসি ইভেন্টগুলোর একচেটিয়া সম্প্রচার স্বত্বের অধিকারী। এই রাজনৈতিক বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। দিল্লিকে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক করার পর এখন আহমেদাবাদকে সামনে রেখে অলিম্পিক আয়োজনের বিড করছে ভারত। এ ক্ষেত্রে কাতারকে সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) অবস্থান আইসিসির তুলনায় অনেক কঠোর। আইওসি সূত্র জানিয়েছে, কোনো দেশকে অলিম্পিক আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয় না যদি বয়কটের আশঙ্কা থাকে। অলিম্পিক চার্টার অনুযায়ী ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকতে হয় এবং গেমসে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মত প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইওসির জিরো টলারেন্স নীতির উদাহরণ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হচ্ছে। গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিশ্ব জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলি দলকে ভিসা না দেওয়ায় আইওসি ভবিষ্যৎ অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করে। এর ফলে ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের দৌড় থেকে দেশটি ছিটকে পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েন তাই ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজক নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯০০ সালের পর প্রথমবার ক্রিকেট ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে এবং ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিকেও এই খেলাটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভারতীয় বাজারকে আকৃষ্ট করতেই ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করা হয়, তবে যেকোনো মূল্যে নয়। উল্লেখ্য, গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত সীমান্ত পেরিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাল্টা হিসেবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সিরিজও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। আইওসি সূত্রের মতে, বিশ্বাসযোগ্য অলিম্পিক আয়োজক হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ভারতকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুস্পষ্ট অগ্রগতি দেখাতে হবে। |