| শিরোনাম |
|
পাঁচ কন্যাকে নিয়ে ভাঙা মাটির ঘরে নূর ইসলামের বেঁচে থাকার লড়াই: সহায়তার আকুতি অসহায় পরিবারের
কামরুল হাসান রবি, ময়মনসিংহ :
|
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের দিগীরপাড় (চক্রনা) গ্রামের বাসিন্দা নূর ইসলাম (৫০) পাঁচ কন্যা সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাঙা একটি মাটির ঘরে চরম অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে ভেঙে পড়া ঘরেই কোনোভাবে দিন কাটছে তার পরিবারের।জানা গেছে, গত বন্যায় নূর ইসলামের মাটির ঘরের এক পাশের দেওয়াল ধসে পড়ে। অর্থের অভাবে তিনি এখনো ঘরটি মেরামত করতে পারেননি। ভাঙা দেওয়ালের জায়গায় কম্বল দিয়ে অস্থায়ী বেড়া তৈরি করে পরিবারটি ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছে। সামনের বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বাকি দুই পাশের দেওয়ালেও বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় ঘরটি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে—এই আতঙ্কেই দিন-রাত কাটছে তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের পুরোনো ও ছিদ্রযুক্ত ছাউনি দেওয়া একটি জরাজীর্ণ মাটির ঘর। এক পাশের দেওয়াল নেই বললেই চলে, সেখানে কম্বল পেঁচিয়ে কোনোভাবে বাতাস ও বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে পরিবারটি। নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেই ঘরেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন নূর ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। নূর ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর। অন্যের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে সাত সদস্যের সংসার চালান। কিন্তু সামান্য সেই আয়ে ঘর মেরামত করা তো দূরের কথা, প্রতিদিনের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। দারিদ্র্যের কারণে তার পাঁচ মেয়ের পড়াশোনাও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূর ইসলাম বলেন, “আমার পাঁচটা মেয়ে, কোনো ছেলে নাই। মাত্র চার শতাংশ জমির ওপর এই মাটির ঘরটা আছে। গত বন্যায় ঘরের এক পাশ ভেঙে গেছে। সামনে বৃষ্টি আসলে বাকি দেওয়ালও ভেঙে পড়তে পারে। কিন্তু ঘর মেরামত করার মতো টাকা আমার কাছে নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে এখানেই থাকছি।” তিনি আরও বলেন, “অন্যের কাজ করে যা পাই, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চালাই। মেয়েদের লেখাপড়াও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আমি স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে সহযোগিতা চাই, যেন আমার পরিবারটা নিরাপদে থাকতে পারে।” অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। |