বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৪:০৫ পিএম
শিরোনাম পাবনায় বাড়ছে হামের প্রকোপ, দুই শিশুর মৃত্যু       তালিকায় ভুয়া নাম-নম্বর, অর্থের বিনিময়ে রুগ্ন গরু বিতরণের অভিযোগ       ভোলায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক, কোস্টগার্ডের অভিযান       পৃথিবীকে বিপদমুক্ত করতে জোট বাঁধছে রাশিয়া-চীন?       চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ​       জনবল সংকটে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল       দুমকীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল ব্যাংক কর্মকর্তার      
চুয়াডাঙ্গা ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তালিকা জটিলতায় বঞ্চিত অসহায়রা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসহায় দুঃখী বৃদ্ধ-বিধবারা
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :
Published : Saturday, 14 March, 2026
চুয়াডাঙ্গা ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তালিকা জটিলতায় বঞ্চিত অসহায়রা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসহায় দুঃখী বৃদ্ধ-বিধবারা

চুয়াডাঙ্গা ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, তালিকা জটিলতায় বঞ্চিত অসহায়রা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন অসহায় দুঃখী বৃদ্ধ-বিধবারা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌরসভায়  ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক মতানৈক্য, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে তীব্র সমালোচনা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের অনেকেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ফলে চাল না পেয়ে বহু অসহায় মানুষ হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, দর্শনা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মোট ৩ হাজার ৮৫ জন উপকারভোগীর জন্য কার্ডপ্রতি ১০ কেজি হারে মোট ৩০ হাজার ৮৫০ কেজি ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পৌরসভার ৩, ৪, ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চাল বিতরণ করা হয়। তবে তালিকায় নাম না থাকায় অনেক দরিদ্র মানুষ চাল পাননি। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী রবিবার ১৫ মার্চের মধ্যে বাকি তালিকা সম্পন্ন করে চাল বিতরণ শেষ করা হবে। 

চাল নিতে এসে তালিকায় নাম না পেয়ে অনেক বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, উপার্জনে অক্ষম ও অসহায় দুঃখী নারী চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ি ফিরে যান। একজন বৃদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, আমার স্বামী নেই, সন্তান নেই। কাজ করার শক্তিও নেই। মানুষের দয়ার ওপর বেঁচে আছি। তবুও একটা চালের কার্ডও পেলাম না। ইসারন নেছা নামের আরেক বৃদ্ধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার দেখার কেউ নেই। তেল তো দূরের কথা, চালের কার্ডও এখনো পাইনি। নিয়াজ উদ্দিন নামের এক ভ্যানচালক জানান, ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও কোনো ভিজিএফ কার্ড তিনি পাননি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তালিকা তৈরির সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রভাব ও মতবিরোধের কারণে অনেক প্রকৃত দরিদ্রের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও উঠেছে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে তালিকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে চাল বিতরণ কার্যক্রমে।
চাল বিতরণের সময় অনিয়মের একটি ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক নারী একাই ১৭টি টোকেন নিয়ে চাল নিতে এলে বিষয়টি 
দর্শনা পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলমের নজরে আসে। পরে তিনি টোকেনগুলো জব্দ করে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কয়েকজন চাকরিজীবী এবং বাজারের কিছু কাপড় ব্যবসায়ীও ভিজিএফের চাল পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার তালিকায় নাম না থাকায় বঞ্চিত হয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৩ মার্চ ভিজিএফের চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে দর্শনা পৌর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি সভা করে। সেখানে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নির্ধারিত সময়েও তালিকা প্রস্তুত শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তালিকা প্রস্তুতের জন্য সর্বোচ্চ ৮ দিনের সময় দেওয়া হলেও প্রায় ১০ দিন পার হলেও কয়েকটি ওয়ার্ডের তালিকা সম্পূর্ণ হয়নি।

দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের আহ্বানে প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য দুইজন করে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিছু তালিকা জমা পড়েছে, বাকিগুলোও দ্রুত জমা দেওয়া হবে। তবে কোনো সচ্ছল ব্যক্তি যদি ভিজিএফের চাল পেয়ে থাকেন, তাহলে তা ঠিক হয়নি।
অন্যদিকে দর্শনা পৌর জামায়াতের আমির শাইকুল ইসলাম অপু বলেন, তাদের দলের কেউ স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিনিধিরা প্রকৃত প্রাপকদের নামই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পূর্বের তালিকা থেকেও কিছু নাম নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, একটি ওয়ার্ডে অনেক দরিদ্র মানুষ থাকলেও সবাইকে কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়। সরকার যে পরিমাণ কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে, সে অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখা হবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com