| শিরোনাম |
|
সেচ ব্যবস্থায় আশা জাগাচ্ছে সেন্টার পিভট
মামুন খন্দকার, পাবনা :
|
![]() সেচ ব্যবস্থায় আশা জাগাচ্ছে সেন্টার পিভট পাবনার ঈশ্বরদী ও নাটোরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে কৃষি খামারের সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে সেন্টার পিভট নামের এই আধুনিক সেচ প্রযুক্তি। প্রথাগত প্লাবন ধানের উপযোগী হলেও পেঁয়াজ গম কিংবা সবজির মত সংবেদনশীল ফসল চাষে সুষমা ভাবে পানি দেওয়া যায় না। ফলে পানি অপচয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত পানিতে শিকড় পচে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেন্টার পিভট মাটির আদ্রতা মেপে নিয়ন্ত্রণিত ভাবে সেচ দেয়। যার ফলে জলাবদ্ধতার কোন ভোগান্তি হয় না। সেই সাথে পানির অপচয় কমে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। সময় ও শ্রমীক খরচও লাগে অনেক কম। প্রাথমিক ভাবে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা ও নাটোরে সেন্টার পিভট যন্ত্র স্থাপন করেছে বিএডিসি। কমপক্ষে ২০ বছর কর্মক্ষমতা সম্পূর্ণ এই যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারিত হলে সেচ ব্যবস্থায় আনবে আমুল পরিবর্তন, প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। বিএডিসি সুত্র থেকে জানা যায়, যেখানে ম্যানুয়ালি পদ্ধতির মাধ্যমে নালা কেটে জমির পানি প্লাবিত করতে বিঘাপ্রতি পানির ব্যবহার হয় ১ লাখ থেকে ২ লাখ লিটার, এবং ১৫০ একর জমিতে শ্রমীক প্রয়োজন হয় ৩০ জন। এছাড়াও পুরো জমিতে পানি দিতে সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ দিন। সেখানে সেন্টার পিভট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টির মতো ওপর থেকে সুষমা ভাবে পানি ছিটানো হয়। এতে বিঘাপ্রতি পানির ব্যবহার হয় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার লিটার। এতে বিঘাপ্রতি সেচ দিতে পানি সাশ্রয়ী হয় (৩০%)। এবং শ্রমীক লাগে ১ জন। এছাড়াও ১৫০ একর জমিতে সেচ দিতে সময় লাগে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিন। তাছাড়া ম্যানুয়ালি পদ্ধতির মাধ্যমে আখের ফলন হয় একর প্রতি ১৫ থেকে ১৭ টন। সেখানে সেন্টার পিভটের মাধ্যমে সেচ দিলে একর প্রতি ফলন বাড়ে ২৭ থেকে ৩০ টন। যা সনাতন পদ্ধতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। বিএডিসি সুত্র থেকে জানাযায়, সনাতন প্লাবন সেচের মাধ্যমে পানি দেওয়া যায় শুধু সমতল জমিতে। সেখানে সেন্টার পিভটের মাধ্যমে উঁচু-নিচু বা চরাঞ্চলের জমিতেও সমানভাবে সেচ দেওয়া যায়। এছাড়া সনাতন প্লাবন সেচের মাধ্যমে ফসলের গোড়ায় পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও। সেন্টার পিভটের মাধ্যমে সেচ দিলে জলাবদ্ধতার কোন ভয় থাকে না বলে জানায় বিএডিসি। মুলাডুলী এলাকার কৃষক আলমগীর হোসেন, তোফাজ্জল ও ইউসুফ আলী জানান, এই মেশিনের মাধ্যমে জমিতে পরিমাণ মতো সেচ দেওয়া যায়। এবং জমিতে পানি দিতে কোন প্রকার ড্রেন বা নালা কাটতে হয় না। এবং এটি জমিতে বৃষ্টির মতো করে পানি ছিটানোর ফলে ফসলের মাঠে সমানভাবে পানি দেওয়া যায়। এই যন্ত্রটির সাহায্য জমিতে পানি দেওয়া হলে জমিতে ফলন বাড়ার পাশাপাশি, আবাদেও খরচ অনেক কম হবে বলে জানান তারা। পাবনা মূলাডুলি আখ খামারের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই যন্ত্রটি ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ১৩৫ থেকে ১৫০ একর জমিতে কাভারেজ দিতে পারছে। যা ম্যানুয়ালি ভাবে করতে গেলে ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতো। এবং শ্রমীক খরচ ৩টা করে অর্থাৎ প্রতিদিন ৭৫ থেকে ৯০ টা শ্রমীক প্রয়োজন হতো। পাবনা বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র বার্মন বলেন, ফসলের টাইটেরিয়া ভেদে যে ফসলের যে পরিমাণ পানি লাগবে, এই যন্ত্রটির মাধ্যমে সেই ক্যাটাগরিতে পানি দেওয়া যায়। এটি একটি নতুন আধুনিক প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিটি সেচের মাধ্যম কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানান তিনি। পাবনা বিএডিসির (সেচ) নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, দেশব্যাপী এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পেঁয়াজ, রসুন এবং গম চাষাবাদ করা যাবে। তিনি বলেন, কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা সহজ করতে কৃষকদের মাঝে তাদের এই যন্ত্রটি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। |