| শিরোনাম |
|
বাশারের ভাবনায় সাকিব আল হাসান
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
|
আবারও আলোচনায় সাকিব আল হাসান। গুঞ্জন ছিল পাকিস্তান সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরবেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তা হয়নি। সামনেই নিউজিল্যান্ড সিরিজ। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পা রাখবেন কিউইরা। এ সিরিজে কি দেখা যাবে সাকিবকে? জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পাওয়া হাবিবুল বাশার গতকাল জানালেন, সাকিবকে দলে ফেরানো নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো বা আবেগী সিদ্ধান্ত তারা নিতে চান না।তিনি বলেন ‘সাকিব ঠিক কতখানি ক্রিকেটের মধ্যে আছে, তা নিয়ে আমিও নিশ্চিত নই। সাকিব কাল এসে পরশু খেলে ফেলবে না। ওর প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এটি কোনো ইমোশনাল জায়গা না। ও যখন ফিরবে, তখন যেন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই ফেরে।’ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাকিব। সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আর দেশে ফেরা হয়নি তার। জাতীয় দলেরও বাইরে আছেন তিনি। সাকিবের স্বপ্ন দেশের মাটিতে অবসর নেওয়া। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাকিবকে আবারও জাতীয় দলে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বিসিবি সমন্বিতভাবে তার মামলার জটিলতা নিরসনে কাজ করছে বলে জানা গেছে। হাবিবুল বাশার জানান, সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দলে থাকলে ভারসাম্য বজায় থাকে। তার মতে, সাকিবের মামলার আইনগত সমাধান এবং মাঠের প্রস্তুতি এই দুইয়ের সমন্বয়েই ঠিক হবে কবে নাগাদ তিনি আবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামবেন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই পোস্টারবয়কে লম্বা সময়ের জন্য তিনি জাতীয় দলে চান। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হবে আগামী বছরের অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সাকিবের সার্ভিস নিতে পারলে দল অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি চাই সে লম্বা সময়ের জন্য আসুক। আমার মনে হয় সাকিবের আরও দুই বছর খেলার সামর্থ্য আছে। আমাদের পরিকল্পনা এমন হওয়া উচিত যেন সে অন্তত ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলে যেতে পারে।’ এক দিন আগেই গত সোমবার জাতীয় দলের নতুন নির্বাচক প্যানেল ঘোষণা করেছে বিসিবি। এতে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। তিনি এর আগে পুরুষ ও নারী উভয় দলেরই নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের এই প্যানেলে সদস্য হিসেবে থাকছেন সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন, নাঈম ইসলাম ও নাদিফ চৌধুরী। নবনিযুক্ত এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ থাকবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এর আগে নান্নু ভাই, ফারুক ভাই বা আকরাম ভাইদের অধীনে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচক হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকে। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াটা অবশ্যই আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের এবং চ্যালেঞ্জের।’ নির্বাচক হিসেবে দলের জন্য সেরা সিদ্ধান্তটিই নিতে চান হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘একশ জন মানুষের একশ রকম মত থাকবে, কিন্তু নির্বাচক হিসেবে আমাদের কাজ হলো সব আলোচনা শেষে যেটা দলের জন্য সেরা, সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া।’ হাবিবুল বাশার জানান, দল নির্বাচনের কাজটা নিজের সততা দিয়ে তিনি করতে চান। তিনি বলেন, ‘নিজের প্রতি সৎ থাকতে চাই, নিজের প্রতি জবাবদিহিতা রাখতে চাই, নিজের কাছে যেন পরিষ্কার থাকতে পারি।’ নতুন এই নির্বাচক প্যানেলকে ভারসাম্যপূর্ণ বলেও মনে করেন হাবিবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘নাঈম ইসলামের দীর্ঘ ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। নাদিফ চৌধুরী বয়সভিত্তিক দল নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। আর শান্ত তো আগে থেকেই ছিল। সব মিলিয়ে আমরা খুব ভালো একটা টিম পেয়েছি। |