| শিরোনাম |
|
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে চুয়াডাঙ্গায় কৃষকের ৪শ হেক্টর ফসলে ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন; ঝড়ে ছাদ থেকে পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
|
হঠাৎ এক ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গা জেলায় নেমে এসেছে বিপর্যয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা প্রায় ৪ শ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। মাঠজুড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ভুট্টা, ধান, পান, সবজি ও ফলের বাগান। একইসঙ্গে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, সড়ক যোগাযোগে সৃষ্টি হয়েছে বিঘ্ন, আর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক বৃদ্ধ।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হয়। এই স্বল্প সময়ের ঝড়েই কৃষকদের কয়েক মাসের শ্রম কার্যত মাটিতে মিশে যায়। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ৯৭ হাজার ৩৬৯ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে অন্তত ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ভুট্টা ২৬৩ হেক্টর, বোরো ধান ৬০ হেক্টর, কলা ৪১ হেক্টর, পেপে ১১ হেক্টর, সবজি ১২ হেক্টর, আম ৫ হেক্টর এবং পান ৩ হেক্টর জমি রয়েছে। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অনেক ভুট্টা ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ধানের শীষ নুয়ে গেছে, আমের গুটি ঝরে পড়েছে, পান বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে। ঋণ নিয়ে চাষ করা অনেক কৃষক এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, কীভাবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, ঝড়ের কারণে ফসলের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ঝড়ের এই তাণ্ডবে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ সড়কের নূরনগর মোড়, ডিঙ্গেদহ ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা এবং চুয়াডাঙ্গা-দামুড়হুদা সড়কের ফকিরপাড়া ও কোষাঘাটা এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। অপরদিকে, ঝড়ের সময় আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় গ্রামের সরদারপাড়ায় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মকলেছুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ বাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে টিন নামানোর সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝড়ের প্রভাবে জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, রাত ৮টা ৫৫ মিনিট থেকে ১০টা ০৫ মিনিট পর্যন্ত জেলায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ছাদ থেকে পড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং ঝড়ে সড়কে পড়ে থাকা গাছ অপসারণ করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বড় আঘাত পড়েছে কৃষকদের ওপর। ফসলের এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। |