| শিরোনাম |
|
শেষ বয়সের আকুতি,"আরেকবার দেখতে চাই আমার ৩৩২ নম্বর রুম"
চবি প্রতিনিধি
|
![]() শেষ বয়সের আকুতি, ৬৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ কর্মজীবনে ছিলেন সোনালী ব্যাংকের একজন এজিএম। সময়ের ভারে নুয়ে পড়া এই মানুষটির মনে বারবার ভেসে উঠছে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি,বন্ধুত্ব, আড্ডা আর স্বপ্নময় দিনগুলো। ছাত্রজীবনে তিনি থাকতেন এ. এফ রহমান হলের ৩৩২ নম্বর কক্ষে। সেই সময় নিজের নাম এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু নজরুলের নাম রুমের দেয়ালে খোদাই করে লিখে রেখেছিলেন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও, সেই দেয়ালেই রয়ে গেছে তারুণ্যের এক টুকরো স্মৃতি। সম্প্রতি তিনি তার ছেলের কাছে এক আবেগঘন ইচ্ছা প্রকাশ করেন।আর একবার দেখতে চান তার সেই প্রিয় হল, ৩৩২ নম্বর রুম, আর দেয়ালে খোদাই করা নামটি। পিতার এই ইচ্ছা পূরণে তার ছেলে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণকণ্ঠ প্রতিবেদকের সাথে। বিষয়টি জানার পর এ. এফ রহমান হলের ৩৩২ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেয়ালে খোদাই করা সেই নামের ছবি ও হলের বিভিন্ন জায়গার ভিডিও ধারণ করে পাঠানো হয়। ৩৩২ নম্বর রুমে গিয়ে দেখা যায়, সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও দেয়ালে খোদাই করা সেই নামগুলো এখনো টিকে আছে—নীরবে বহন করছে এক প্রজন্মের স্মৃতি। এই দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসিবুর রহমান। ক্যাম্পাসের সেই দিনগুলো যেন চোখের সামনে হাতছানি দিয়ে উঠে আরেকটিবার, যেখানে ছিল প্রাণখোলা হাসি, বন্ধুত্ব আর স্বপ্নভরা সময়। ৪২ বছর পরেও লিখাটা খুঁজে পাওয়া যাবে তিনি তা ভাবতেও পারেননি। এ বিষয়ে মুঠোফোনে টি.এম হাসিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে বলেন,"বিশ্ববিদ্যালয় জীবন অনেক বেশি মিস করি। বিছানায় যখন শুয়ে থাকি চোখের সামনে ভেসে উঠে ক্যাম্পাস জীবনের সোনালী দিনগুলো। আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বারংবার ইচ্ছে করছে যদি আরেকটিবার ফিরে যেতে পারতাম ছাত্রজীবনে।" ক্যাম্পাসের সবচেয়ে মজার স্মৃতি কোনটি? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ,"একদিন ছাত্রলীগ এবং ছাত্র শিবিরের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। তখন আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু হলের এক কার্ণিশে লুকিয়ে পড়ি। সারারাত সেখানে অবরুদ্ধ থাকার পর সকালে ভিসি এসে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।" ক্যাম্পাসের শেষদিনটি কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন ,"ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার দিন আমার মনে হচ্ছিল পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে। বুকভরা স্মৃতি নিয়ে সেদিন ক্যাম্পাস ছেড়েছিলাম।" সবশেষ বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি দুইটি উপদেশ প্রদান করেন, সবসময় সততা নিষ্ঠার সাথে যেকোনো দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং অপরের উপকার করার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকতে হবে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় এটি এক জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতির ভাণ্ডার, যা মানুষ শেষ বয়সেও বয়ে বেড়ায় হৃদয়ের গভীরে। |