| শিরোনাম |
|
২৬ লাখ টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব জুতা কারখানার মালিক, সহায়তার আশায় দিন গুনছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() ২৬ লাখ টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব জুতা কারখানার মালিক, সহায়তার আশায় দিন গুনছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাইশমৌজা বাজার এলাকায় মনো মানিক রবি দাস নামে হরিজন সম্প্রদায়ের এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তুলেছিলেন ‘দিক এন্ড ব্রাদার্স সু ফ্যাক্টরি’। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, কষ্ট আর স্বপ্ন জড়ানো এই ছোট কারখানাটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। দিন-রাত পরিশ্রম করে গড়ে তোলা জুতার এই ব্যবসাকে ঘিরেই ছিল তার সব আশা। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রির মৌসুম। সেই লক্ষ্যে আগেভাগেই তৈরি করেছিলেন বিপুল পরিমাণ জুতা। পরিকল্পনা ছিল বাজারে সরবরাহ করে ঋণের চাপ কমানো, সংসারে স্বস্তি আনা এবং দুই সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া। কিন্তু গত ৯ মার্চ রাতে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় পুরো কারখানাটি। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন গ্রাস করে নেয় প্রস্তুতকৃত সব জুতা, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। নিজের চোখের সামনে স্বপ্ন ভস্মীভূত হতে দেখেন তিনি। এখন সেখানে পড়ে আছে পোড়া টিন, ছাই আর নিঃশব্দ ধ্বংসস্তূপ। ঘটনার পর বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। আয়-রোজগারের কোনো পথ না থাকায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভুক্তভোগীর দুই ছেলে অর্জুন রবিদাস (দিক), সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং রনক রবি দাস (ছোটন), পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাবার উপার্জনেই চলত তাদের পড়াশোনা। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের শিক্ষাজীবন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কারখানাটি গড়ে তুলতে এনজিও, ব্যাংক ও স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন মনো মানিক রবি দাস। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে সব হারিয়ে এখন সেই ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মনো মানিক রবি দাস বলেন, “অনেক কষ্ট করে এই কারখানাটা দাঁড় করিয়েছিলাম। ঈদের বাজার ধরার জন্য জুতা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ২৬ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কীভাবে ঋণ শোধ করব, কীভাবে সংসার চালাব কিছুই বুঝতে পারছি না।” তিনি জানান, পুনর্বাসনের আশায় নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “তার আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এটি নাশকতা নয়, একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।” স্থানীয়দের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে দ্রুত পুনর্বাসনের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একসময় নিজের হাতে কাজ করে পরিবারের স্বপ্ন বুনতেন মনো মানিক রবি দাস। আজ সেই হাত থেমে গেছে, চোখের সামনে পড়ে আছে পোড়া কারখানার ধ্বংসস্তূপ। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে তিনি অপেক্ষায় আছেন নতুন কোনো ভোরের। ঈদুল আজহার আগে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে ছোট পরিসরে হলেও আবার নতুন করে কাজ শুরু করার আশা দেখছেন তিনি। হয়তো আবারও জুতা তৈরি হবে, আবারও জ্বলবে চুলা, আবারও স্কুলে ফিরবে দুই শিশু। এখন প্রশ্ন মানবিক সহায়তার হাত কি বাড়বে, নাকি আগুনে পোড়া সেই স্বপ্নই হয়ে থাকবে তার জীবনের শেষ গল্প? |