| শিরোনাম |
|
ত্রিশালের ধানীখলা বাজারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা, আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা
ময়মনসিংহের ত্রিশাল প্রতিনিধি”
|
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখলা বাজারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় রনি মিয়া, জুনায়েদ আলম রিজেন্টসহ আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বাজারে এসে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দোকান খালি করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং নিজেদের জমির মালিক দাবি করছেন। এতে করে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানীখলা বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মোঃ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “বাজারে যাদের ঘর আছে, তারাই এই জায়গার প্রকৃত মালিক। আমাদের বাজারের দাগ হলো বিআরএস ১১৪৮৯ ও ১১৪৯০। কিন্তু যারা জায়গা দখলের চেষ্টা করছে, তাদের দলিলের দাগ নম্বর ১২৪৮৯ ও ১২৪৯০।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের দখল রয়েছে। ১৯৬২ সালের আরআর (ROR) রেকর্ড এবং পরবর্তী নতুন রেকর্ডও আমাদের ঘর মালিকদের নামে রয়েছে। আগে জমিদার আমাদের নামে পত্তন দিয়ে গেছেন, এরপর ১৯৬২ সালে আমাদের নামে রেকর্ড হয় এবং সর্বশেষ রেকর্ডও আমাদের নামেই হয়েছে।” এদিকে, আরেকজন ঘর মালিক জুবায়ের হোসেন বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি। হঠাৎ করে কিছু লোক এসে আমাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।” ধানীখলা এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে কথা বললে তারা জানান, বর্তমানে এই জায়গায় যাদের ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারাই প্রকৃত মালিক। তাদের দাবি, “কিছু ব্যক্তি অযথা এই বিরোধ সৃষ্টি করছে। আদালত থেকে একাধিকবার রায় হওয়ার পরও তারা সেই রায় মানছে না এবং অবৈধভাবে জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা হলে রনি মিয়া দাবি করেন, “উক্ত জায়গার মালিক আমরা। আমাদের কাছে সকল বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বর্তমানে তারা জোরপূর্বক জায়গাটি দখল করে আছে। কিছুদিন কাজের ব্যস্ততায় আছি, পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারবো।” স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানীখলা বাজারের বিআরএস দাগ নং ১১৪৮৯ ও ১১৪৯০ অনুযায়ী জমিদার ভূপেন্দ্র নারায়ন আচার্য চৌধুরী ১৯৪৭ সালে কবুলিয়তের মাধ্যমে আলিম বেপারী, ছমির উদ্দিন সরকার, অজিত বেপারী, শহর আলী, হামেদ আলী ফরাজিসহ একাধিক ব্যক্তির নামে মোট ১.২৬ একর জমি হস্তান্তর করেন। বর্তমানে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা তাদের জীবিকা ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। |