মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ১১:০৬:৫১ এএম
শিরোনাম শান্তিগঞ্জে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত        প্রসঙ্গ সীমান্তে পুশ ইন, সীমান্তে পুশ ইন       নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক, স্বামী গ্রেপ্তার        পটুয়াখালীতে র‍্যাবের অভিযানে জাল টাকা ও ১১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১       মুহূর্তের গোলে সৌদির বিপক্ষে হার এড়ালো উরুগুয়ে       ভোলার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত       পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফাঁদে ফেলে অপহরণ, পরে মুক্তিপণ দাবি গ্রেফতার ৩      
স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে তাইওয়ানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
Published : Saturday, 16 May, 2026
স্বাধীনতা ঘোষণা না করতে তাইওয়ানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠক শেষে শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি চাই না কেউ স্বাধীনতা ঘোষণা করুক।”

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এর আগে বলেছিলেন, তাইওয়ানকে আলাদা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই, কারণ দেশটি নিজেকে আগে থেকেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং দেশটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতেও যুক্তরাষ্ট্রকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি ‘কোনও পক্ষেই প্রতিশ্রুতি দেননি’। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে।

ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো- তারা তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলে, যার ভিত্তিতে বেইজিংকে চীনের একমাত্র বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

চীন বরাবরই তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে’র কড়া সমালোচনা করে আসছে। বেইজিং তাকে ‘ঝামেলা সৃষ্টিকারী’ এবং ‘দুই তীরের শান্তি বিনষ্টকারী’ বলেও আখ্যা দিয়েছে।

তাইওয়ানের অনেক মানুষ নিজেদের আলাদা জাতি হিসেবে মনে করলেও অধিকাংশই বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে। অর্থাৎ, তারা চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়া বা আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা-কোনওটিই চায় না।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করতে হবে- আমি সেটা চাই না। আমি চাই পরিস্থিতি শান্ত হোক, চীনও শান্ত থাকুক।”

ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি ও শি জিনপিং তাইওয়ান ইস্যুতে ‘অনেক আলোচনা’ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না- এ প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং তাইওয়ান প্রশ্নে ‘খুবই দৃঢ় অবস্থানে’ আছেন এবং ‘স্বাধীনতার কোনও আন্দোলন দেখতে চান না’।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, “তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।”

তাইওয়ানকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

গত বছরের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এতে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং।

ট্রাম্প বলেন, অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ হয়েছে।

তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমাকে এখন তাইওয়ান পরিচালনাকারী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে হবে।”

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও দুই পক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অনানুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রয়েছে। সাধারণত মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সরাসরি তাইওয়ানের নেতার সঙ্গে কথা বলেন না, কারণ এতে বেইজিংয়ের সঙ্গে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

তাইওয়ানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চি শনিবার বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি বৈধ ও অনুমোদিত।

চেন বলেন, “তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম ভিত্তি।”

অন্যদিকে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং জানান, তাদের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ বৈঠকের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, “তাইওয়ান সবসময়ই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার রক্ষক হিসেবে কাজ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি চীনের ‘আক্রমণাত্মক সামরিক তৎপরতা ও কর্তৃত্ববাদী আচরণের’ সমালোচনাও করেন। সূত্র: ফক্স নিউজ, বিবিসি



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com