মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ ১১:০৬:০৭ এএম
শিরোনাম প্রসঙ্গ সীমান্তে পুশ ইন, সীমান্তে পুশ ইন       নড়াইলে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক, স্বামী গ্রেপ্তার        পটুয়াখালীতে র‍্যাবের অভিযানে জাল টাকা ও ১১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক ১       মুহূর্তের গোলে সৌদির বিপক্ষে হার এড়ালো উরুগুয়ে       ভোলার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত       পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফাঁদে ফেলে অপহরণ, পরে মুক্তিপণ দাবি গ্রেফতার ৩       ধর্মপাশায় ওসি সহিদ উল্ল্যার সততা ও মাদকবিরোধী ভূমিকা প্রশংসিত      
কুয়াকাটা সৈকতে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ভাঙা কংক্রিট
আবিদ হাসান সাইমুম, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
Published : Sunday, 17 May, 2026
কুয়াকাটা সৈকতে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ভাঙা কংক্রিট
সুন্দর্য ও পর্যটনের লীলাভূমি ও দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এখন পরিণত হয়েছে এক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। সমুদ্রের ভাঙনে হওয়া বিভিন্ন স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট, লোহার অংশ ও অবকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় এসব কংক্রিট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। উপকূলে প্রাণহানির আশঙ্কাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত ‘সিকদার রিসোর্টের বিচ বার’ নামের একটি স্থাপনা ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ভেঙে দেওয়া হয়। তবে সেই স্থাপনার ভাঙা কংক্রিট আজও অপসারণ করা হয়নি।

১০০ ফুট নিচে নেমে পাওয়া তথ্য মতে, কয়েকশ মিটার আগে সমুদ্রের একাংশ ৩ হাজার ৬৩০ স্কয়ার জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হয় কুয়াকাটা হোটেলটি। পরে ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন উপকূলীয় ভাঙনে উদ্যানের বড় অংশ সমুদ্রে হারিয়ে গেছে। বিলীন হওয়া স্থাপনার টয়লেট, রান্নাঘর, টিউবওয়েল, গোসলখানা, বৈদ্যুতিক সুইচ ও ফাউন্ডেশনের কংক্রিট এখনো সৈকতে পড়ে রয়েছে। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকলেও কিছু অংশ ওপরে উঠে থাকায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় জেলে করিম হাওলাদার বলেন, জোয়ারের সময় ভাঙা অংশগুলো আমরা দেখতে পাই না। তাই পা কেটে যায়। যারা এখানে নতুন, তারা বুঝতেই পারে না। এগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ হোসেন বলেন, জোয়ারের সময় পুরো বিচ পানির নিচে ডুবে থাকে। তখন কোথায় কী আছে বোঝা যায় না। উঠান নামে এক মোটরসাইকেলচালক তার বেলা পর্যটক আনতে গিয়ে কংক্রিটে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন। আমরা এর দ্রুত অপসারণ চাই।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসল করতে নেমেছিলাম। পানির নিচে থাকা কংক্রিটে একজনের পায়ে কেটে যায়। তখন বুঝতে পারি সৈকতটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এমন ঝুঁকি থাকলে মানুষ এখানে আসতে ভয় পাবে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক (উপকূল) আবুল হোসেন রাজু বলেন, সমুদ্রতটে বিলীন হওয়া স্থাপনাগুলোর কংক্রিট ধীরে ধীরে বালির নিচে চাপা পড়ে। পুরোনো কংক্রিট হারিয়ে যায় না। ভবিষ্যতে এগুলো আরও বিপজ্জনক “ট্রাপ” বা ফাঁদে পরিণত হবে। এটি শুধু ভ্রমণকারীদের জন্য নয়, পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, বিচ এলাকায় কিছু কংক্রিট পড়ে থাকার বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুত অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওছার হামিদ জানান, কংক্রিট পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ, কংক্রিট অপসারণের বিষয়ে আমরা পর্যটন বিভাগের সঙ্গে কথা বলছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অপসারণের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com