বুধবার ১০ জুন ২০২৬ ১৯:০৬:৫৫ পিএম
শিরোনাম জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মাউশির পরিচালক নিয়োগে শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ       ৩০ বছর পর কবর থেকে তোলা হবে সালমান শাহ’র লাশ       গুরু আনতে গিয়ে ধ র্ষ ণের শিকার শিশু, বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা       তদন্তের গ্যাঁড়াকলে নাসির-তামিমার নিষ্কৃতি: দৃষ্টান্তমূলক ৭ বছরের সাজা না হওয়ায় কাঠগড়ায় ন্যায়বিচার       কৃষি ব্যাংকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত       সিংড়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধা মাকে গলা টিপে হত্যা        বগুড়ার এসপি কর্তৃক গাবতলী থানার ওসিসহ ৩ কর্মকর্তাকে সম্মাননা প্রদান       
চার মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণ, খুন ১৭: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নৈতিক ধসের খতিয়ান
মো: আরিফুল ইসলাম সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার
Published : Saturday, 23 May, 2026
চার মাসে ১১৮ শিশু ধর্ষণ, খুন ১৭: বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নৈতিক ধসের খতিয়ান
একটি সমাজে যখন সবচেয়ে নিরীহ ও অরক্ষিত অংশ—অর্থাৎ কন্যা শিশুরা—ক্রমাগত হিংস্রতার শিকার হতে থাকে, তখন বুঝতে হবে সেই সমাজের নৈতিক ভিত্তি ও বিচারব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি। গত চার মাসে দেশে ১১৮ জন কন্যা শিশু ধর্ষণ এবং ১৭ জন শিশুকে হত্যার নৃশংস পরিসংখ্যান কেবল কিছু সংখ্যা নয়; এগুলো একেকটি পরিবারের কান্না এবং রাষ্ট্রের বিবেকহীনতার জলন্ত প্রমাণ।
​সমাজবিজ্ঞানী ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধের এই ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতির পেছনে প্রধানত কাজ করছে রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আইনের শাসনের দুর্বলতা, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অভাব।

​১. আইনের শাসনের দুর্বলতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
​বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের কঠোর আইন থাকলেও এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা ও গলদ।
​ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়া: একটি মামলার রায় হতে বছরের পর বছর লেগে যায়। ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার বা জামিনে এসে বুক ফুলিয়ে হাঁটার সাহস পায়।
​সাক্ষী সুরক্ষা ও তদন্তের গাফিলতি: অনেক সময় প্রভাবশালী অপরাধীদের চাপে বা ত্রুটিপূর্ণ পুলিশি তদন্তের কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যায়।
​দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব: অপরাধীদের দ্রুত এবং প্রকাশ্যে কঠোর শাস্তি না হওয়ায় নতুন নতুন অপরাধী চক্র তৈরি হচ্ছে। আইনের ভয় না থাকাই অপরাধের প্রধান জ্বালানি।
​২. সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়
​ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির অপব্যবহার, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং অপসংস্কৃতির গ্রাসে তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ আজ বিভ্রান্ত। মানবিক মর্যাদা, নারীর প্রতি সম্মান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটি দখল করে নিয়েছে পাশবিকতা। পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিবাদের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
​৩. ধর্মীয় চর্চা ও মূল্যবোধের অভাব
​যেকোনো ধর্মের মূল শিক্ষা হলো আত্মশুদ্ধি, পরমতসহিষ্ণুতা এবং দুর্বলকে রক্ষা করা। সমাজে শুধু আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার বাড়লেও, ধর্মের মূল চেতনা—যেমন নৈতিকতা, লোভ ও লালসা সংবরণ, এবং অপরাধবোধ—মানুষের আচরণে প্রতিফলিত হচ্ছে না। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সঠিক চর্চা না থাকায় মানুষের ভেতরের ‘বিবেক’ লোপ পাচ্ছে।
​আইনের প্রয়োগ ও ধর্মীয় আইনের মাধ্যমে কি সমাধান সম্ভব?
​এই মহামারি সদৃশ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ধর্মীয়/ইসলামিক আইনের সঠিক বাস্তবায়ন কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

​ক) প্রচলিত আইনের সংস্কার ও কঠোর প্রয়োগ
​বর্তমান আইনি কাঠামোকে কার্যকর করতে হলে নিচের পদক্ষেপগুলো জরুরি:
​দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু ধর্ষণের মামলাগুলো সর্বোচ্চ ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকর করতে হবে।
​প্রভাবমুক্ত তদন্ত: রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল করতে হবে।
​জিরো টলারেন্স: অপরাধী যে দলের বা মতেরই হোক না কেন, রাষ্ট্রকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
​খ) ইসলামিক ও ধর্মীয় আইনের দৃষ্টিভঙ্গি ও এর কার্যকারিতা
​ইসলাম ধর্মসহ প্রায় সব ধর্মেই ব্যভিচার, ধর্ষণ এবং হত্যার বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির বিধান রয়েছে। ইসলামিক আইন (শরিয়াহ) অনুযায়ী:
​কঠোর শাস্তি (হুদুদ): ইসলামে জোরপূর্বক ধর্ষণের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর—অপরাধী বিবাহিত হলে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড (রজম) এবং অবিবাহিত হলে ১০০ দোররা ও নির্বাসন, অথবা আধুনিক ফিকহবিদদের মতে ধর্ষণের ভয়াবহতা বিবেচনায় সরাসরি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
​হত্যার বদলে হত্যা (কিসাস): কোনো শিশুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে খুনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা অপরাধীদের মনে চরম ভীতি তৈরি করে।
​বাস্তবায়ন কি সম্ভব?
বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এর বিচারব্যবস্থা ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রচ লিত পেনাল কোড (দণ্ডবিধি) দ্বারা পরিচালিত। হুবহু ইসলামিক অপরাধ আইন (Criminal Law) পুরোপুরি রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়ন করা রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতার কারণে সরাসরি সম্ভব না হলেও, ইসলামিক আইনের মূল চেতনা ও কঠোর শাস্তির নীতি আমাদের প্রচলিত আইনে যুক্ত করা অবশ্যই সম্ভব।

​যেমন:
১. প্রকাশ্যে বা দ্রুততম সময়ে ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা: ইসলামে শাস্তির মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা (যাতে অন্য কেউ সাহস না পায়)। প্রচলিত আইনের অধীনেই যদি ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দ্রুত এবং জনসমক্ষে (বা গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে) কার্যকর করা হয়, তবে অপরাধীরা ভয় পাবে।
২. নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার বাধ্যতামূলক বিস্তার: পাঠ্যপুস্তকে এবং জুমার খুতবায় নিয়মিত নারী অধিকার, শিশুর নিরাপত্তা এবং পরকালের জবাবদিহিতা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com