| শিরোনাম |
|
বর্ষার শুরুতেই বাঞ্ছারামপুরে সাপের ছোবলে গৃহবধূর মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() বর্ষার শুরুতেই বাঞ্ছারামপুরে সাপের ছোবলে গৃহবধূর মৃত্যু রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলার রূপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা আক্তার ওই গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার বিকালে বাড়ির আশপাশে গৃহস্থালির কাজ করার সময় ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ মিনাকে দংশন করে। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। সাপের কামড়ের পরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। রূপসদী ইউনিয়নের হোগলাকান্দি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন বলেন, “সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আমার নিকটাত্মীয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা ওঝা-বৈদ্য ডাকা হয়নি। পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।” এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর এলাকায় সাপের উপদ্রব বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় ও জলাবদ্ধ স্থানে প্রায়ই বিষধর সাপের দেখা মিলছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাপের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে সুস্থ করা সম্ভব। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কুসংস্কার, ঝাড়ফুঁক কিংবা ওঝা-বৈদ্যের শরণাপন্ন না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, “সাপের কামড়ে কারও মৃত্যুর বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাইনি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেখেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।” ইঞ্জিঃ মো. আজহার উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |