| শিরোনাম |
|
বাঁশখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনের কারাদণ্ড
বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
|
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানের সময় এক মায়ের অসহায় আর্তি এবং মাদকাসক্ত সন্তানের বিরুদ্ধে শাস্তির আবেদন উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।রোববার (৮ জুন) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তিনজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাদের সাজা প্রদান করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন। অভিযানের প্রথম ঘটনায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পালেগ্রাম এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহায়তায় মদ্যপ অবস্থায় মো. মাঈনুদ্দীন (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তিনি কাথরিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় কাভার্ড ভ্যানচালক। জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপানে আসক্ত থাকার কথা স্বীকার করলে জনশৃঙ্খলা বিনষ্টের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। মায়ের আবেদনে ছেলের ৯ মাসের কারাদণ্ড রাত ৯টার দিকে শীলকূপ ইউনিয়নের মুলকিরচর এলাকায় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নিজ মাকে মারধরের অভিযোগে মো. শহীদুল্লাহ্ (১৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ নূরী ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালে অভিযুক্তের মা উপস্থিত হয়ে ছেলের দীর্ঘদিনের অপকর্মের বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাদকের টাকা জোগাড় করতে শহীদুল্লাহ নিয়মিত মোবাইল ফোন চুরি করত এবং তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মোবাইল চুরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযোগ করেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সে প্রায়ই এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত এবং অশালীন আচরণে এলাকাবাসীকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্ত ছিল যখন ওই মা নিজেই প্রশাসনের কাছে সন্তানের শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, ছেলের মাদকাসক্তি ও সহিংস আচরণের কারণে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৯ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। ইয়াবাসহ আটক, কারাদণ্ড একই রাতে হইট্টলতলা-জঙ্গল পাইরাং এলাকা থেকে ইয়াবাসহ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জামাল হোসেন (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। স্থানীয় জনগণ তাকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করে প্রশাসনকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অভিযানে বাঁশখালী থানা পুলিশ, রামদাস মুন্সিরহাট তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও সাধারণ জনগণ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় নেতৃত্বের সমন্বিত উদ্যোগই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বাঁশখালীর এ তিনটি ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে—মাদকের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধই হতে পারে নিরাপদ সমাজ গড়ার প্রধান হাতিয়ার। |