| শিরোনাম |
|
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল : দলীয় শক্তিতে কে কোথায় সেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
|
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল : দলীয় শক্তিতে কে কোথায় সেরা একদিকে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার তারকাখচিত ভারসাম্যপূর্ণ দল, অন্যদিকে ব্রাজিলও তারকাখচিত, আর প্রস্তুতিও ভালো দলটির। গোলরক্ষক থেকে আক্রমণভাগ—বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের সামর্থ্যের পাল্লা কত ভারী, কোন জায়গায় কার শ্রেষ্ঠত্ব, তা একবার ফিরে দেখা যাক। গোলরক্ষক বলা হয়, গোলরক্ষকেরা যেদিকে হেঁটে যান সেদিকে নাকি ঘাস ওঠে না। তবে গোলপোস্টের নিচে এমন গোলকিপারও থাকেন, যাঁরা শুধু ঘাসই নন ফুলও ফোটাতে পারেন। আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ব্রাজিলের আলিসন বেকার তেমনই দুই গোলরক্ষক। সময়ের সেরা গোলরক্ষকদের তালিকায় দুজনের নামই ওপরের দিকে থাকবে। ম্যাচে যেকোনো পর্যায়ে খেলার গতিপথ বদলে দিতে পারেন মার্তিনেজ। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে বড় মঞ্চে মার্তিনেজ এককথায় অপ্রতিরোধ্য। মানসিকভাবে অবিশ্বাস্য দৃঢ় মার্তিনেজ পেনাল্টি শুটআউট ঠেকানোয়ও সিদ্ধহস্ত। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন লিওনেল মেসির আদরের ‘দিবু’। আর ও পড়ুনমায়াবী ‘নয়’ নম্বরের খোঁজে ব্রাজিল: কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো হতে ০৯ জুন ২০২৬ মায়াবী ‘নয়’ নম্বরের খোঁজে ব্রাজিল: কুনিয়া কি পারবেন রোনালদো হতে কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডস এবং ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে একাধিক পেনাল্টি ঠেকিয়ে দলকে জেতানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মার্তিনেজ। ওপেন প্লেতে বিশ্বসেরা না হলেও জরুরি মুহূর্তে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ক্ষমতা আছে তাঁর। বিশ্বকাপ ফাইনালে যেমন শেষ মুহূর্তে রানদাল কোলো মুয়ানির শট ঠেকিয়ে দলকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন। অন্যদিকে ট্যাকটিকালি আলিসন সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে পরিপূর্ণ গোলরক্ষকদের একজন। শট ঠেকানো, ক্রস নিয়ন্ত্রণ এবং বিল্ডআপে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারেন লিভারপুলের এই তারকা গোলরক্ষক। আর ওয়ান অন ওয়ানে আলিসন এককথায় অনন্য। আনচেলত্তি যদি ব্রাজিলকে হাইলাইন ডিফেন্সে খেলান তবে পেছনের ফাঁকা জায়গার ঘাটতি পূরণে আলিসনকে হয়ে উঠতে হতে পারে ‘সুইপার–কিপার’। তবে আলিসনের মূল দুর্বলতা পেনাল্টি শুটআউটে। টাইব্রেকারে এখন পর্যন্ত নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে পারেননি আলিসন। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে দুই দলের গোলরক্ষকদের পাশাপাশি রাখলে মার্তিনেজ কিছুটা এগিয়ে থাকবেন। বিশ্বকাপের মতো নকআউট টুর্নামেন্টে প্রভাব, মানসিক দৃঢ়তা, পেনাল্টিতে দক্ষতা ও বড় মঞ্চে প্রমাণিত সাফল্যের কারণে মার্তিনেজ বেশ এগিয়ে। মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফিরয়টার্স পরিসংখ্যান বলছে, গোল না খাওয়ায় ২০২২ বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনা বিশ্বসেরা দল। তবে পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়। এ মুহূর্তে ব্যক্তিগত সামর্থ্য বিবেচনা করলে ব্রাজিলের রক্ষণ যেকোনো বিবেচনায় দুর্দান্ত। ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ গভীরতা আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক বেশি। ব্রাজিলের রক্ষণভাগে আছেন মারকিনিওস, ব্রেমার এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের মতো তারকা। বিশেষ করে মারকিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল নিজেদের সেরা সময় পার করছেন। মারকিনিওস কখনো কখনো হোল্ডিং–সেন্টারব্যাক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দলের প্রয়োজনে হাই প্রেসিং সিস্টেমে বল এগিয়ে নেওয়ায়ও ভূমিকা রাখেন। ব্রেমার একজন ক্ল্যাসিক্যাল ডুয়েল উইনিং ডিফেন্ডার। শারীরিক লড়াই, এরিয়াল এবং বক্স ডিফেন্ডিংয়ে খুবই কার্যকর। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তুরুপের তাস হতে পারেন আর্সেনাল সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। গত মৌসুমে গানারদের হয়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখান গ্যাব্রিয়েল। তবে এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের তুরুপের তাস হতে পারেন আর্সেনাল সেন্টারব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস। গত মৌসুমে গানারদের হয়ে অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখান গ্যাব্রিয়েল। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ১২০ মিনিট ধরে রক্ষণে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ। যখন যেখানে বল, সেখানে মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে গেছেন এই তরুণ ডিফেন্ডার। তাঁর উপস্থিতিই মূলত রক্ষণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলকে কিছুটা এগিয়ে রেখেছে। রক্ষণে ব্রাজিলের দুর্বলতা মূলত ফুলব্যাক পজিশনে। বিশেষ করে সেন্টারব্যাকের তুলনায়। এর মধ্যে ওয়েসলির চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়াও ব্রাজিলের বিপদ বাড়িয়েছে। তবে দানিলো কিংবা অ্যালেক্স সান্দ্রোরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ব্রাজিল রক্ষণে দৃঢ়তা দেখানোর সক্ষমতা রাখে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল : দলীয় শক্তিতে কে কোথায় সেরা |