বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৬:০৭:০১ পিএম
শিরোনাম বকশীগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড       পবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের সঙ্গে দুমকি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সৌজন্য সাক্ষাৎ        মহিলা কলেজ কেন্দ্রের জলাবদ্ধতা: অবহেলার অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা বোর্ড       শহীদ জুলাই দিবস আজ: আবু সাঈদের বাড়িতে কাটেনি শোক, দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি পরিবারের        পটুয়াখালীর বাউফলে ৪৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবক গ্রেফতার        কুড়িগ্রামে রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত এক, আটক দশ       দেড় যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রূপসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী       
সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের নীরব সংগ্রাম
‎রানা আহম্মেদ, প্রতিনিধি
Published : Sunday, 14 June, 2026
সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের নীরব সংগ্রাম

সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের নীরব সংগ্রাম

‎বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক তৈরি হওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বছরের কঠোর অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য নির্ঘুম রাতের গল্প। সমাজে চিকিৎসকদের সাফল্যের আলো যতটা দৃশ্যমান, তাদের সংগ্রামের পথচলা ততটাই অদেখা থেকে যায়।

‎একজন সাধারণ শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে থাকেন, তখন একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে সময় কাটাতে হয় ক্লাসরুম, ওয়ার্ড, হাসপাতালের করিডোর এবং কঠিন পরীক্ষার চাপের মধ্যে। পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে করতে একজন চিকিৎসকের বয়স সাধারণত ২৬ থেকে ২৭ বছরে পৌঁছে যায়। তবে এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পরও অনেকের জন্য স্থায়ী আয় কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।

‎এরপর শুরু হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার আরও কঠিন পথচলা। এফসিপিএস (FCPS) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর ধরে রোগীর সেবা, জরুরি দায়িত্ব, একাডেমিক চাপ এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলেন তরুণ চিকিৎসকেরা।

‎সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর নতুন নীতিমালা নিয়ে চিকিৎসক সমাজে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণদের মধ্যে কেবল প্রথম এক হাজার প্রশিক্ষণার্থী সরকারি ভাতা পাবেন। অথচ প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক বিভিন্ন হাসপাতালে এফসিপিএস প্রশিক্ষণে যুক্ত হন। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী দীর্ঘ সময় কোনো আর্থিক ভাতা ছাড়াই প্রশিক্ষণ ও হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‎এ নিয়ে তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘ প্রশিক্ষণকালীন সময়ে একজন চিকিৎসক কীভাবে নিজের পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন এবং ভবিষ্যতের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবেন?

‎দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমিত জনবল, যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসককে উন্নত বিশ্বের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর দায়িত্ব নিতে হয়। তারপরও তারা দিন-রাত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে চলেছেন।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের পরও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তা তরুণ চিকিৎসকদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মেধাবী চিকিৎসকদের একটি অংশ বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ।

‎চিকিৎসকদের দাবি, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণকালীন ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

‎সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি তরুণ চিকিৎসকদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করা এখন সময়ের দাবি। কারণ একজন চিকিৎসকের স্বপ্ন ভেঙে গেলে ক্ষতি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো জাতির। একটি সুস্থ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চিকিৎসকদের প্রাপ্য সম্মান, সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com