| শিরোনাম |
|
সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের নীরব সংগ্রাম
রানা আহম্মেদ, প্রতিনিধি
|
![]() সাদা অ্যাপ্রনের আড়ালে বাংলাদেশের তরুণ চিকিৎসকদের নীরব সংগ্রাম একজন সাধারণ শিক্ষার্থী যখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে থাকেন, তখন একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে সময় কাটাতে হয় ক্লাসরুম, ওয়ার্ড, হাসপাতালের করিডোর এবং কঠিন পরীক্ষার চাপের মধ্যে। পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্স এবং এক বছরের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে করতে একজন চিকিৎসকের বয়স সাধারণত ২৬ থেকে ২৭ বছরে পৌঁছে যায়। তবে এই দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের পরও অনেকের জন্য স্থায়ী আয় কিংবা আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এরপর শুরু হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার আরও কঠিন পথচলা। এফসিপিএস (FCPS) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ বছর ধরে রোগীর সেবা, জরুরি দায়িত্ব, একাডেমিক চাপ এবং কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলেন তরুণ চিকিৎসকেরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS)-এর নতুন নীতিমালা নিয়ে চিকিৎসক সমাজে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণদের মধ্যে কেবল প্রথম এক হাজার প্রশিক্ষণার্থী সরকারি ভাতা পাবেন। অথচ প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজার চিকিৎসক বিভিন্ন হাসপাতালে এফসিপিএস প্রশিক্ষণে যুক্ত হন। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থী দীর্ঘ সময় কোনো আর্থিক ভাতা ছাড়াই প্রশিক্ষণ ও হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ নিয়ে তরুণ চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, দীর্ঘ প্রশিক্ষণকালীন সময়ে একজন চিকিৎসক কীভাবে নিজের পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন এবং ভবিষ্যতের আর্থিক দায়িত্ব সামলাবেন? দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সীমিত জনবল, যন্ত্রপাতির ঘাটতি এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসকেরা প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসককে উন্নত বিশ্বের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি রোগীর দায়িত্ব নিতে হয়। তারপরও তারা দিন-রাত মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে চলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মত্যাগের পরও আর্থিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে তা তরুণ চিকিৎসকদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মেধাবী চিকিৎসকদের একটি অংশ বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ। চিকিৎসকদের দাবি, তারা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না, বরং তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণকালীন ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শক্তি তরুণ চিকিৎসকদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে সুরক্ষিত করা এখন সময়ের দাবি। কারণ একজন চিকিৎসকের স্বপ্ন ভেঙে গেলে ক্ষতি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো জাতির। একটি সুস্থ, মানবিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে চিকিৎসকদের প্রাপ্য সম্মান, সুযোগ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। |