| শিরোনাম |
|
প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া অনলাইন সিন্ডিকেট: চিকিৎসকদের ছবি-ভয়েস নকল করে ভুয়া ওষুধের মরণফাঁদ, জিম্মি জনস্বাস্থ্য
মো: আরিফুল ইসলাম।
|
![]() প্রশাসনের নীরবতায় বেপরোয়া অনলাইন সিন্ডিকেট: চিকিৎসকদের ছবি-ভয়েস নকল করে ভুয়া ওষুধের মরণফাঁদ, জিম্মি জনস্বাস্থ্য এই ভুয়া রিভিউ এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সাফল্যের গল্প দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এসব মানহীন পণ্য কিনছেন। ল্যাবরেটরিতে কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানমিশ্রিত ওষুধ সবার জন্য ঢালাওভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এসব অননুমোদিত এবং মানহীন ওষুধ সেবনের ফলে সাময়িক উপশম মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে মারাত্মক সাইড ইফেক্ট বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে লিভার ও কিডনি বিকল হওয়া, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, যা অনেক সময় রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই ভয়াবহ সামাজিক ও শারীরিক ক্ষতি রোধ করতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসকদেরও এখন এগিয়ে আসার সময় এসেছে, কারণ তাদের উচিত নিজেদের পেশাগত সম্মান রক্ষা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এই ভুঁইফোড় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও দণ্ডবিধির আওতায় প্রতারণার মামলা দায়ের করা, যাতে এই চক্রের মালিকরা কোনোভাবেই পার না পায়। জনস্বাস্থ্যের এই চরম বিপর্যয় ঠেকাতে এবং সমাজ থেকে এই অনলাইন সিন্ডিকেটকে পুরোপুরি নির্মূল করতে দেশের প্রচলিত আইনের কঠোরতম প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উচিত দেশজুড়ে ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে এই ভুয়া ওষুধ বিক্রির অনলাইন পেজ ও অবৈধ কারখানাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে দেওয়া। একই সাথে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, বিটিআরসি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটকে যৌথভাবে কাজ করে এই চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে কঠিনতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র সাধারণ কারাদণ্ডই নয়, এদের বিরুদ্ধে এমন দৃষ্টান্তমূলক ও বিপুল পরিমাণের অর্থদণ্ডের আইনি বিধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেন সেই অর্থ পরবর্তীতে চিকিৎসার নামে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগীদের কল্যাণে এবং পুনর্বাসনে সরকারিভাবে ব্যয় করা সম্ভব হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান, নিয়মিত সিলগালা অভিযান এবং আদালতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে অনলাইনে গজিয়ে ওঠা এই মরণফাঁদ বন্ধ করে দেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে। |