শনিবার ১৮ জুলাই ২০২৬ ২০:০৭:০০ পিএম
শিরোনাম টাকা লেনদেনের জেরে ছোট ভাইয়ের বদলে বড় ভাইকে কুপিয়ে জখম, সন্ত্রাসীদের শাস্তির দাবিতে গৌরীপুরে বিক্ষোভ       জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বগুড়া প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত        কুড়িগ্রামে একটি কলেজের অবৈধ ভাবে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব সমালোচিত প্রশাসন       নরসিংদীতে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে দুই বন্ধুর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু        গাবতলীর দুর্গাহাটায় বৃক্ষরোপণকালে লালু ও জাকির        রাজধানীর ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর       মানুষের সেবা করেই মন জয় করতে চাই: এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল      
ডিএমডি শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: ঋণ অনুমোদন, টেন্ডার কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক গণকণ্ঠ
Published : Wednesday, 1 July, 2026
ডিএমডি শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: ঋণ অনুমোদন, টেন্ডার কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবি

ডিএমডি শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ: ঋণ অনুমোদন, টেন্ডার কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবি

আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, টেন্ডার কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত প্রভাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি দৈনিক গণকণ্ঠ। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এর আগে দৈনিক গণকণ্ঠে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের নোয়াখালী-সেনবাগ শাখার আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতির অভিযোগ উঠে আসে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, তদন্ত শেষে প্রস্তুত হওয়া চার্জশিট দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট ডিএমডির দপ্তরে আটকে রয়েছে, ফলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বিলম্বিত হচ্ছে।
নতুন করে দুদকে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দার কিছু ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিরূপণ করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক সক্ষমতা, জামানতের পর্যাপ্ততা, ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এবং ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে এসব সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতি বা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ব্যাংকের টেন্ডার ও ক্রয় কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট টেন্ডার কার্যক্রমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে প্রভাব খাটানো, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি কিংবা গোপন সমঝোতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কি না, তাও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অনুরোধ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) অথবা অন্য কোনো অনিয়মের উপাদান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত যেকোনো অভিযোগ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও নথিভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শচীন্দ্র নাথ সমাদ্দারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী উল্লেখ্য, উত্থাপিত সব বিষয় বর্তমানে অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো কোনো তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।
দৈনিক গণকণ্ঠ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য প্রকাশে সর্বদা আগ্রহী।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com