| শিরোনাম |
|
ছয় মাসে জি এম পির অপরাধ দমনে দৃশ্যমান সাফল্য:
হত্যা ৭৫ শতাংশের বেশি কমেছে, মাদক-ছিনতাই বিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান
মোহাম্মদ গোলাম রসুল
গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি
|
![]() হত্যা ৭৫ শতাংশের বেশি কমেছে, মাদক-ছিনতাই বিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান জিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মহানগরে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০টিতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে হত্যা মামলা ৭৫ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। এ সময়ের ২০টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১৯টির রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি ঘটনায় অজ্ঞাতনামা মরদেহ শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মাদক নির্মূলে জিএমপি নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। মহানগরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, কারবারিদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মাঝারবাড়ি, কেশোরিটেক, ব্যাংকের মাঠ ও কাশিমপুর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্যোগও চলছে। মহানগরের ছিনতাই প্রবণ এলাকায় চেকপোস্ট, ব্লক রেইড, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দ্রুত বিচার আইন, অস্ত্র আইন এবং ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অপহরণ ও হানি ট্র্যাপ প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার তথ্য বিশ্লেষণ, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে জিএমপি। পুলিশের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে এ ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধারে সফলতা মিলছে। বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়ার প্রবণতা প্রায় বন্ধ নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গাজীপুর মহানগরে বেওয়ারিশ লাশ ফেলে যাওয়ার প্রবণতা প্রায় বন্ধ হয়েছে। হত্যা মামলার অধিকাংশের রহস্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হলেও গাজীপুর মহানগরে এদের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জিএমপি। সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত, তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলবাজির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। জিএমপি জানিয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। নাগরিক নিরাপত্তায় পুলিশের অঙ্গীকার জিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদারিত্ব, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সক্ষমতার সমন্বয়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে অপরাধমুক্ত গাজীপুর গড়ে তুলতে সাধারণ জনগণ, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতাও অপরিহার্য বলে মনে করছে পুলিশ। জিএমপির প্রত্যাশা, কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং জনসম্পৃক্ত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গাজীপুর মহানগরে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আরও সুসংহত হবে। |