| শিরোনাম |
|
ভারতের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে আখাউড়া স্থলবন্দরে কমেছে রাজস্ব আয়
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
|
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বাংলাদেশি কয়েকটি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্যে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। অন্যদিকে কয়েক মাস ধরে পণ্য আমদানি প্রায় বন্ধ থাকায় সরকারের রাজস্ব আয়েও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।২০২৫-২৬ অর্থবছরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র ৯ কোটি ৬৮ লাখ ৬৫ হাজার ১৭৯ টাকা। তবে একই সময়ে অনিয়মিত আমদানির কারণে রাজস্ব আয় ব্যাপকভাবে কমেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। আমদানির তুলনায় রপ্তানি বেশি হওয়ায় এটি একটি রপ্তানিমুখী স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, রড, ভোজ্য তেল, শুটকি, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়। বর্তমানে রপ্তানিকৃত পণ্যের প্রায় অর্ধেকই হিমায়িত মাছ, যা ত্রিপুরার আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে সরবরাহ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের অনীহার কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পণ্য আমদানি হয়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার অধিকাংশই ভারতের ত্রিপুরার বাইরের রাজ্য থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মুনাফা পাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি কার্যক্রম থেকে সরে এসেছেন। আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ভারতে ৫২৪ কোটি ২ লাখ ৮৯ হাজার ২৩৮ টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯ টাকা। অন্যদিকে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ভারত থেকে মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার ৭৪০ টাকার চাল, আগরবাতি ও জিরা আমদানি হয়েছে। এসব পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৩ টাকা। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫৯ টাকার জিরা, ডাল ও কাজুবাদাম আমদানি হয়েছিল, যেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আসে ৪ কোটি ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৯ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, ২০২৫ সালের ১৭ মে ভারত সরকার স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিক পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলের স্বাদযুক্ত জুস, পিভিসি সামগ্রী, তুলাসহ কয়েকটি উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমদানিকারক-রপ্তানিকারক রাজীব উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পিভিসি সামগ্রী ছিল সবচেয়ে বেশি রপ্তানিকৃত পণ্য। এসব পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় বন্দরের বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় বাজারে যে পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হবে, তা দ্রুত আমদানির অনুমতি দেওয়া হলে আমদানি কার্যক্রম বাড়বে। অন্যথায় লোকসান দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন আমদানি চালিয়ে যাবেন না। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে যে টানাপোড়েন ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা করা হলেও তা হয়নি। ফলে বন্দরের রপ্তানি আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। দুই দেশের সরকারের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার শেখ শাহির আহমেদ বলেন, পণ্য আমদানি অনিয়মিত হওয়ায় রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বাড়াতে শুল্ক কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতির দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। |