বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬ ১৫:০৭:৫৬ পিএম
শিরোনাম পবিপ্রবির নতুন উপাচার্যের সঙ্গে দুমকি উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সৌজন্য সাক্ষাৎ        মহিলা কলেজ কেন্দ্রের জলাবদ্ধতা: অবহেলার অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা বোর্ড       শহীদ জুলাই দিবস আজ: আবু সাঈদের বাড়িতে কাটেনি শোক, দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি পরিবারের        পটুয়াখালীর বাউফলে ৪৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবক গ্রেফতার        কুড়িগ্রামে রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত এক, আটক দশ       দেড় যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি রূপসার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন সড়কে, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী        রাজশাহীতে সাংবাদিকদের জন্য তিন দিনের এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণ শুরু      
সাঙ্গু নদীতে প্রবল স্রোত, থানচিতে আটকে আছে ৩৭ পর্যটক
বিপ্লব চক্রবর্তী বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
Published : Wednesday, 8 July, 2026

সাঙ্গু নদীতে প্রবল স্রোত, থানচিতে আটকে আছে ৩৭ পর্যটকবান্দরবানে টানা চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সাঙ্গু নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হওয়ায় থানচি উপজেলার নাফাখুম, জিন্নাপাড়া ও বাঘের মুখসহ দুর্গম বিভিন্ন এলাকায় এখনো ৩৭ জন পর্যটক আটকা পড়ে আছে। নদীর  প্রবল স্রোতের কারণে ফিরে আসার ঝুঁকি না নিয়ে তারা পানি কমে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে  থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

স্থানীয়  ও প্রশাসন সূত্রে  জানা যায়, কয়েকদিনের টানা অতিভারী বৃষ্টিপাতে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসহ ছোট-বড় পাহাড়ি ছড়াগুলোর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নাফাখুম, জিন্নাপাড়া, বাঘের মুখসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় পর্যটকরা আটকা পড়েন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নৌকা ও লাইফ জ্যাকেট পাঠিয়ে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নদীর তীব্র স্রোত ও উচ্চ পানি প্রবাহের কারণে পর্যটকরা ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে রাজি হননি। পানি কমলে তারা ফিরে আসবেন বলে প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

থানচি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক ক্লেমেন ত্রিপুরা জানান, 'জিন্নাপাড়ায় ১৪ জন, বাঘের মুখ এলাকায় গাইডসহ ১৬ জন এবং নাফাখুমে গাইডবিহীন সাতজন পর্যটক আটকা রয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৩৭ জন পর্যটক বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি আরো বলেন, আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। তবে তারা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পানি কমার অপেক্ষায় রয়েছেন।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলা প্রশাসন সোমবার রাত থেকে আগামী শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে জেলার পর্যটন খাত, বিশেষ করে হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘১০ জুলাই পর্যন্ত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর অনেক পর্যটক বুকিংয়ের তারিখ পরিবর্তন না করে সরাসরি অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। এতে জেলার হোটেল ও রিসোর্ট মালিকরা উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।’

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আজ সকাল ৯ টায় তা বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ উচ্চতা প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বলেন, গতকাল সকাল ৯ টা থেকে আজ সকাল ৯ টা পর্যন্ত জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান বলেন, ‘আটকে পড়া সব পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা নিয়েও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »





আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com