| শিরোনাম |
|
মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১২, আতঙ্কে স্থানীয়রা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
|
![]() মিয়ানমারে জান্তার বিমান হামলায় নিহত ১২, আতঙ্কে স্থানীয়রা শুক্রবার বিকেলে, মান্দালয় শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তরে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই গ্রামটি জান্তা-বিরোধী গেরিলা বাহিনীর দখলে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকার দিন দিন বেসামরিক জনগণের ওপর বিমান হামলা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা দেশটিতে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, হামলার সময় লোকজন বাজারে যাচ্ছিল। আকস্মিক বিমান হামলায় বহু মানুষ হতাহত হন। তিনি বলেন, "আমরা নিহতদের তালিকা প্রস্তুত করছি, এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।" তবে পিডিএফ ইউনিটের দাবি, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। প্রত্যক্ষদর্শী ৬২ বছর বয়সী মিন্ট সোয়ে বলেন, "আমি যখন লুকিয়ে ছিলাম, তখনই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। বাইরে এসে দেখি, পুরো বাজার এলাকা আগুনে পুড়ছে।" হামলার পর গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জান্তার এই হামলার ফলে অনেক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং খাদ্য ও চিকিৎসার সংকট তৈরি হয়েছে। জান্তা বাহিনীর এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও, এই হামলার নৃশংসতা ও বর্বরতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। গণতন্ত্রপন্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে জান্তা সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইছে, যা মিয়ানমারের সংকট আরও গভীর করছে। এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জান্তা সরকার যতদিন দমন-পীড়ন চালাবে, ততদিন মিয়ানমারে শান্তি ফিরবে না। দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন। তথ্যসূত্র : বিবিসি |