শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৪:৫১ পিএম
শিরোনাম ২৬ লাখ টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব জুতা কারখানার মালিক, সহায়তার আশায় দিন গুনছেন       ফেনীতে ৮ হাজার লিটার ভোজ্যতেল মজুদের অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা        বিসিএস অডিট ক্যাডারের প্রথম ব্যাচের কর্মকর্তা কামরুল হাইয়ের ইন্তেকাল       দপ্তর সংস্থার প্রধানগণের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়       কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি সড়কের কার্পেটিং না হওয়ায় বিপাকে ৫ হাজার পরিবার       দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তা ‘লার্নিং টু আর্নিং’ এর সংযোগকে আরও শক্তিশালী করেঃ শিক্ষা মন্ত্রী (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)       প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বেরোবিতে জোরপূর্বক রুম দখলের অভিযোগ বিএনসিসির বিরুদ্ধে      
কৃষকের সাফল্য, ২১ কেজি বীজে ২২১ মন ধান!
নিজস্ব প্রতিবেদক :
Published : Sunday, 13 April, 2025

কৃষকের সাফল্য, ২১ কেজি বীজে ২২১ মন ধান!

কৃষকের সাফল্য, ২১ কেজি বীজে ২২১ মন ধান!

চলতি বোরো মৌসুমে বাগেরহাটের ফকিরহাটে চার বিঘা জমিতে মাত্র ২১ কেজি বীজ লাগিয়ে ২২১ মন ধান উৎপাদন করেছেন কৃষক মোস্তফা হাসান। যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের সর্বশেষ ও সর্বাধুনিক জাত ব্রি-১০৮ ধান চাষে এ অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন তিনি। উপজেলায় প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে সোনালি বর্ণের এই ধান।


জানা গেছে, ইউটিউবের মাধ্যমে ধানের বীজ সম্পর্কে জানতে পারেন কৃষক মোস্তফা হাসান। পরে শেরপুর থেকে ৩শ টাকা কেজি দরে ২১ কেজি বীজ ধান সংগ্রহ করেন। চার বিঘা জমিতে কিষান খরচ, জমি চাষ, সার, ওষুধ ও সেচ খরচ মিলে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। সার ব্যবস্থাপনা কম লাগায় ও বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশা প্রকাশ করছেন।

ধান ইতোমধ্যে পেকে গেছে। এক শতক জমির ধান নমুনা কর্তনে ৪৫ কেজি ধান পেয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে প্রতি মন ধানের মূল্য ১ হাজার ৬শ টাকা। ২-১ দিনের মধ্যে বাকি ধান কর্তন করবেন বলে জানান মোস্তফা হাসান। 

ইতোমধ্যে ফকিরহাট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বীজের জন্য ২০ মন ধানের চাহিদার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন। 

উপজেলার বাহিরদিয়া ব্লকে কৃষক মোস্তফা হাসানের ধান খেতে গিয়ে দেখা গেছে, আশে-পাশের অনেক কৃষক আগ্রহ নিয়ে ধান দেখতে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তাসহ কৃষি বিভাগের লোকজন কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নয়ন সেন বলেন, ‘সোনালি রঙের ব্রি-১০৮ জাতের ধানটি এই উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে। সম্ভবত জেলায়ও প্রথম হবে।

এ ধানের চাল মাঝারি লম্বা ও চিকন। ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হওয়ায় উচ্চ মূল্যের জিরা ধানের বিকল্প হিসেবে উদ্ভাবন করা হয়েছে। একদিকে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে অধিক দামের কারণে ইতোমধ্যে ধানটির প্রতি ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক মোস্তফা হাসান জানান, ৪ বিঘা ৫ শতক জমিতে ব্রি-১০৮ ধান চাষের সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা লাভ হবে। এ অঞ্চলে প্রথম চাষেই সাফল্য পাওয়ায় অনেক চাষি এটি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাদের সহযোগিতা করতে চান তিনি। কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে জানান। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ব্রি-১০৮ হলো বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউটের আবিষ্কৃত সর্বাধুনিক জাতের ধান। এ ধানটি অন্যান্য জাতের তুলনায় বেশি উৎপাদন হয়। প্রতি গোছায় গড় কুশির সংখ্যা ১৬/১৭টি। দানার পুষ্টতা শতকরা ৮৮.৬ ভাগ। চালে প্রটিনের পরিমাণ ৮.৮ ভাগ যা অন্যান্য চালের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্য সম্মত।

উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝে ধানটি ছড়িতে দিতে এই খেত থেকে সরকারিভাবে বীজ সংগ্রহের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা। 



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







সর্বশেষ সংবাদ
⇒সর্বশেষ সব খবর...
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : প্ল্যানার্স টাওয়ার, ১০তলা, ১৩/এ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮-০২-৪১০৬৪১১১, ৪১০৬৪১১২, ৪১০৬৪১১৩, ৪১০৬৪১১৪, ফ্যাক্স: +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪,হটলাইন : +৮৮-০১৯২৬৬৬৭০০৩-৪
ই-মেইল : pressgonokantho@gmail.com, videogonokantho@gmail.com, cvgonokantho@gmail.com, editorgonokantho@gmail.com, web : www.gonokantho.com